গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাগান এলাকায় একটি অসমাপ্ত কাঠের সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। স্থানীয় মচ্চ নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ না হওয়ায় আশপাশের ১৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াতের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে হোসেনপুর আমবাগান গ্রাম। এই গ্রামের পাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত মচ্চ নদী। স্থানীয়দের কাছে এটি মরা নদী নামেও পরিচিত। নদীর একপাশে হোসেনপুর ও অপরপাশে কিশোরগাড়ি ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের চলাচলের একমাত্র সড়কের সংযোগস্থলে মচ্চ নদীর ওপর ২০২০ সালে গ্রামবাসী ও কিশোরগাড়ি ইউপির চেয়ারম্যানের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সাঁকোটি নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় লাখ টাকা খরচও হয়। কিন্তু সেতুটি অর্ধেক নির্মাণের পর নানা জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে অসমাপ্ত সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। সেতুটির অভাবে কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের মংলিশপুর, নাপিতপাড়া, জাফর মল্লিকপুর, গণকপাড়া, কর্তিপাড়া, কুমারপাড়া, নয়নপুর এবং হোসেনপুর ইউনিয়নের আমবাগান, রামচন্দ্রপুর, হাসবাড়ি, হাসানখোর, আকবারনগর, কলাগাছি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আমবাগান গ্রামসংলগ্ন মচ্চ নদীর ওপর অসম্পন্ন কাঠের সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে। সেতুর কাঠগুলো রোদ আর বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। নদীর পানি কমে তলায় ঠেকেছে। এতে করে এলাকাবাসী যাতায়াতের জন্য সাময়িক ছোট্ট একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে। সেই সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মচ্চ নদীর ওপর একটি সেতুর দাবিতে তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু তাদের দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু আর্থিক সংকট ও নানা জটিলতায় খুঁটির ওপর আর পাটাতন দেওয়া যায়নি। নদীর পানি কমলে অস্থায়ীভাবে ছোট্ট বাশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করেন। বর্তমানে সেটি দিয়ে পারাপার হচ্ছে লোকজন। কিন্তু ছোট্ট সাঁকো দিয়ে ধান-চালসহ কৃষিপণ্য পারাপার করা যায় না। এসব পণ্য প্রায় ১৭ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প রাস্তায় নিতে হয়। এ ছাড়া বন্যার সময় নদীতে পানি বেশি হলে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
আমবাগান গ্রামের পল্লব মিয়া বলেন, ‘ভোট এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের কথা দেয়। কিন্তু সেতু আর হয় না। এখন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। বন্যার সময় খুব কষ্ট হয়।’
কুমারপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্র সাহাদাত খন্দকার বলেন, ‘সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গেলে সব সময় ভয় লাগে। এখন কোনোভাবে পার হওয়া যায়, নদীতে পানি বাড়লে নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রায়ই আমরা ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছতে পারি না। এখানে একটি সেতু হলে আমরা ভালোভাবে স্কুলে যেতে পারব।’
এ বিষয়ে হোসেনপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মন্ডল বলেন, ‘আমবাগান মরা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। অসম্পন্ন সেতুর কাজ বন্যার আগেই শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম বলেন, ‘সেতু নির্মাণে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রকল্প তৈরি করতে বলা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’