এবার ডিম ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হলেন আইনজীবীরা

ডিম ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি, হট্টগোলে জড়ালেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সরকারপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। মধ্য মার্চে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের পর রবিবার ছিল নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সভা ও নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান। একে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে সাংবাদিক, আইনজীবীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, হট্টগোল, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি- সম্পাদকসহ ১৪ পদের সব কটিতে জয়ী হন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থীরা।

সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলালসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার সময় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়।

তবে, গত বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবীর নেতৃত্বে একপক্ষ নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুর থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সমর্থিত ও সরকার সমর্থিত আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের আশপাশে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, দুপুর পৌনে ২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সংবাদ পেয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিলনায়তনের পেছন দিক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে, কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে মিলনায়তনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু ডিম ছুড়ে মারা হয়। এরই মধ্যে ভেতরে কিছু সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এর কিছুক্ষণ পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের নিচতলায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বেশ কিছু ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ থেকে গণমাধ্যমকর্মীরাও রেহাই পাননি।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আইনজীবী হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

বৃহস্পতিবার ‘সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সদস্যবৃন্দ’র ব্যানারে তলবি সভায় ১৪ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ১৪ ও ১৫ জুন পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান তারা।

তাদের মতে, নতুন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যক্রম চলবে।

ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম। ওই দিন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ ও অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদলকে সদস্যসচিব করে অন্তর্বর্তীকালীন এই কমিটি গঠন করা হয়।

রোববার উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি থেকে বলা হয়েছিল দুপুর ২টায় আলোচনা হবে। কিন্তু সাড়ে ৩টায় দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা বলে এর অনেক আগেই তারা (সরকারপন্থী আইনজীবী) কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে থাকেন।

আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও স্লোগানের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনের সামনে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা করে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, বলেন, বেলা ১১টার দিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের নেতৃত্বে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও আব্দুন নূর দুলালকে যেন গ্রহণ করা না হয় সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান তারা। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার প্রশাসনকে তাদের (আহ্বায়ক কমিটি) আদেশ মানতে নির্দেশনা দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বারে যা ঘটেছে অতীতে তা কখনো হয়নি। আমরা এর নিন্দা জানাই।

জানতে চাইলে সমিতির সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভা পূর্বনির্ধারিত ছিল। সভায় কেউ না আসলে তো আমাদের কিছু করার নেই। নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা তাদের মতো করে সবকিছু চাইছে। আজকেও তারা হট্টগোল করেছে।’