ফ্রি বা স্বল্প বাজেটে মার্কেটিং কৌশল
সাধারণত স্টার্টআপ ব্যবসাগুলোতে বাজেট খুব বেশির প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের ব্যবসাগুলোর ক্ষেত্রে ফ্রি মার্কেটিং কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেকখানি কমে যায়। প্রোজেক্ট প্রফিট, সার্ভিস প্রফিট, নিট প্রফিটের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়, যা দিয়ে আরও কয়েক মাস প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যায়। ফ্রি মার্কেটিং টেকনিক অনুসরণ করলে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট থেকে অনেক সার্ভিস পাওয়া যায়। ক্লায়েন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও বেশ সুবিধা হয়। তবে এই ব্যাপারটা নির্ভর করে সার্ভিসের ধরনের ওপর।
ম্যানেজমেন্ট
যেকোনো কোম্পানিতে ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেলস ডিপার্টমেন্ট আপনাকে ১০ কোটি টাকা এনে দিল, কিন্তু এই ১০ কোটি টাকা কীভাবে, কোন খাতে খরচ করা উচিত, কোন খাতে খরচ করলে রিস্ক বাড়ে, কোম্পানির ব্যাকআপ কত রাখা উচিত, কোন জায়গায় কোম্পানি বড় ইনভেস্ট করলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; এ বিষয়গুলো সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সাজাতে হবে। অন্যদিকে টিম মেম্বারদের ম্যানেজ করা, সুবিধা-অসুবিধা দেখা, দক্ষ টিম মেম্বার নিয়োগ করা; যদি ম্যানেজমেন্ট ঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ডিপার্টমেন্ট ভালো পারফরম্যান্স করলেও কোম্পানির কোনো উন্নতি হবে না।
সার্ভিস বা পণ্যের ফোকাস ধরে রাখা
স্টার্টআপ কোম্পানির আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে জাম্প করা। যেমন আপনি হয়তো ড্রাই ফুড নিয়ে ব্যবসা করছেন, কিছুদিন পর দেখলেন অনেকেই ড্রেস চাচ্ছে, ড্রেসের ওপর ফোকাস করে সব দেওয়া শুরু করলেন, আর সেই সঙ্গে ১ বছর ধরে যে ড্রাই ফুডের ওপর ফোকাস রেখে সময়-অর্থ ব্যয় করলেন, সেই পণ্যকেই এখন অবজ্ঞা করা শুরু করলেন। দিন শেষে দেখা যাবে, দুটি পণ্যের কোনোটির ভালো ব্যবসা হচ্ছে না। স্টার্টআপ ব্যবসায় ফোকাস ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্দিষ্ট সময় পর কোনো পণ্যের সেল যখন স্ট্যাবল পর্যায়ে যাবে তখন নতুন আরেকটি পণ্য নিয়ে প্রমোশন শুরু করতে পারেন। কিন্তু প্রধান পণ্য বা সিগনেচার পণ্যের ফোকাস নষ্ট করে নয়।
ব্যর্থ হতে পারেন মনোভাবে রাখা
যেকোনো খাতে বিনিয়োগ করতে হলে ব্যর্থ হতে পারেন এমন মনোভাব আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন। যাতে ব্যর্থ হওয়ার পর কাউকে দোষারোপ করতে না হয়। বরং ভুল বের করে সমাধান করে যেন পুনরায় নতুন উদ্যমে শুরু করতে পারেন।
দক্ষ টিম মেম্বার তৈরি করা
প্রতিটি দক্ষ টিম মেম্বার ব্যবসার অক্সিজেন সিলিন্ডারের মতো। তেমনি একটি কোম্পানির দক্ষ টিম মেম্বার কমতে থাকলে কোম্পানির গ্রোথ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। একটা সময় পর কোম্পানি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। কোম্পানির অক্সিজেন সিলিন্ডার বাড়ানোর পরিকল্পনা মাথায় রাখুন।
কোয়ালিটি সার্ভিস
সেলস, ম্যানেজমেন্ট, দক্ষ টিম মেম্বার সব কিছুই আছে কিন্তু আপনার সার্ভিসের কোয়ালিটি এভারেজ পর্যায়ে বা অন্য কোম্পানি থেকে অনেক খারাপ। তাহলে আপনার কোম্পানি সাময়িক সেল পেলেও, লং টাইম গ্রোথ করবে না। তাই পণ্যের কোয়ালিটি সবসময় একই রকম রাখার চেষ্টা করুন।
ব্যাকআপ মানি
আপনার কোম্পানি এমন এক পর্যায়ে চলে গেল যে, এই মাসে কর্মীদের বেতন দেওয়ার টাকাও ওঠেনি। তাহলে কি আপনি কোম্পানি শাটডাউন করে দেবেন? আর যদি পকেট থেকে বিনিয়োগ করতেই থাকেন সেটাই বা কয় মাস? এমন পরিস্থিতিতেই ব্যাকআপ মানি কাজে লাগবে। কোম্পানি এমনভাবে ধীরে ধীরে গ্রোথ করবেন যাতে আগামী ১ বছরও যদি কোনো সেলস না থাকে তাহলেও যেন কোম্পানি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।