ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানের চার নভোচারী

৫০ বছর পর আবারও মানুষসহ চন্দ্রাভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালে মনুষ্যবাহী শেষ চন্দ্রাভিযান অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর এবার শুরু হচ্ছে আর্তেমিস মিশন। ইতিমধ্যে আর্তেমিস প্রজন্মের হয়ে চন্দ্রাভিযানে যেতে প্রস্তুত চার নভোচারীর পরিচয় তুলে ধরেছে নাসা। আর্তেমিস-টু মিশনে চাঁদের কাছে যাচ্ছেন ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ, জেরেমি হ্যানসেন, ভিক্টর গ্লোভার ও রিড ওয়াইজম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের হাউসটনে জনসন স্পেস সেন্টারে গত সোমবার চার নভোচারীকে পরিচয় করিয়ে দেন নাসার পরিচালক বিল নেলসন। নেলসন বলেন, ‘বিশে^র সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট তাদের চাঁদে আনা–নেওয়া করবে। আমরা চাঁদের অভিযান শুরু করছি। এরপর আমরা মঙ্গলগ্রহের দিকে যাত্রা করব।’ বিবিসি জানিয়েছে, আর্তেমিস-টুর নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না, তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন।

এ মিশনে রচিত হতে যাচ্ছে একের পর এক ইতিহাস। প্রথমবারের মতো চন্দ্রমিশনে যাচ্ছেন কোনো নারী। এ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মহাকাশে সময় কাটানোর রেকর্ডধারী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ক্রিস্টিনা কোচ (৪৪)। ৩২৮ দিন মহাকাশে থাকা এ নারী চন্দ্রাভিযানে থাকছেন মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে। মিশনের নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান (৪৭), যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একজন পাইলট। এর আগে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন তিনি। ওয়াইজম্যানের মহাকাশযানে পাইলট হিসেবে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরেকজন সাবেক পাইলট ভিক্টর গ্লোভার (৪৬)। তিনি একজন আফ্রিকান-আমেরিকান। ২০১৩ সালে নাসার সঙ্গে যুক্ত হন গ্লোভার। ২০২০ সালে প্রথম মহাকাশে যান তিনি। ইতিহাসে প্রথম কানাডীয় হিসেবে চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছেন কানাডার বিমানবাহিনীর পাইলট জেরেমি হানসেন (৪৭)। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালে তারা রওনা হবেন চাঁদের দিকে।