জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার। জবি ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও দক্ষতার কারণে তকমা পেয়েছেন ‘জবির অলরাউন্ডার’ হিসেবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মাহাদী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন দারুণভাবে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রোভার স্কাউট, লেখালিখি, গবেষণা, বিতর্ক, নাট্যাভিনয় ও সাংবাদিকতা সবদিকেই রয়েছে তার কৃতিত্ব। স্নাতকপর্যায়ে অর্জন করেছেন দ্বিতীয় স্থান। পেয়েছেন স্বামী বিবেকানন্দের সার্ধশততম জন্মজয়ন্তী স্মারক শিক্ষাবৃত্তি। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্র সাধনার ফলে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর, হয়েছেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালিখিতে যুক্ত আছেন তিনি। ছাত্রাবস্থায় লেখালেখির হাতেখড়ি। গবেষণা প্রবন্ধ ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কলাম, ছোটগল্প, ফিচার, কবিতাসহ এ পর্যন্ত দুশতাধিক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘প্রেয়সী’র জন্য পেয়েছেন ইউএস বাংলা লেখক সম্মাননা ২০২২। এবারের অমর একুশে বইমেলা ২০২৩-এ প্রকাশিত হয়েছে তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধের দর্শন ও বঙ্গবন্ধু’। বইটির জন্য পেয়েছেন পাঠকের প্রশংসা।
মাহাদী সেকান্দার যুক্ত আছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায়ও। ২০১৮ সালে লাভ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যপদ। কাজ করছেন টেলিভিশন ও মঞ্চনাটকে। ২০২২ সালে ভারত-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু নাট্য উৎসবে কলকাতার যাদবপুর নাট্য সংগঠন দল মাদল থেকে লাভ করেছেন সম্মাননা স্মারক। রোভার স্কাউটের সঙ্গে যুক্ত আছেন শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে। বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজনে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর নির্ধারিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মাহাদী। শুধু সৃজনশীল লেখালিখিতেই নয়, মননশীল শাখায়ও রয়েছে মাহাদীর স্বচ্ছন্দ পদচারণা। বাংলাদেশ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা সাময়িকী উন্নয়ন সংকলনের অক্টোবর, ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত গবেষণাপত্র ‘করোনাকালীন সময়ে পরিবেশগত অবস্থা : একটি নৈতিক বিশ্লেষণ’র জন্য জন্য পেয়েছেন গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড (২০২১)। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা। ইতিহাস একাডেমি-ঢাকা আয়োজিত ১৭তম ইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২২-এ উপস্থাপন করেছিলেন তার গবেষণা প্রবন্ধ। ‘বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নীতিবিদ্যার গুরুত্ব : একটি নৈতিক বিশ্লেষণ’ নামে প্রবন্ধটি আলোচক, দর্শক-শ্রোতার ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এত এত সাফল্যের রহস্য কী জানতে চাইলে জানান, অধ্যবসায় ও একাগ্রতা। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করেছেন বলেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনীতে সাফল্য লাভ সম্ভব হয়েছে বলে জানান মাহাদী। নবীন শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজের পছন্দমতো বিষয় না পেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাদের উদ্দেশে মাহাদী বলেন, নিজের পরিচয় তৈরি করতে হবে নিজের প্রচেষ্টায়। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার জায়গা থেকে সেরাটা দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনে যুক্ত হয়ে নিজেকে তুলে ধরা যায়। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এসব সংগঠনে যুক্ত হয়ে নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিতে হবে। তবেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠতে পারে।
সিফাত রাব্বানী
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা