শিক্ষার আলো ছড়িয়ে এতিমদের পাশে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম

একসময় বেওয়ারিশ লাশ গ্রহণ ও দাফনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের। ১১৫ বছরের বেশি সময় ধরে চলা দাতব্য সংস্থাটির কার্যক্রম এখন আর লাশ গ্রহণ ও দাফনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছ তারা। বিশেষ করে এতিম, দারিদ্র্য ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

গতকাল শনিবার আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে কাকরাইলের জেআর টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধারা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বেওয়ারিশ লাশ দাফনের ঐতিহাসিক কর্মধারার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। সে ধারা এখন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং ভ্যান রয়েছে। গত পাঁচ বছরে তারা বিনামূল্যে ২২ হাজার ৬৪ জন রোগী ও ২ হাজার ৩টি লাশ পরিবহন করেছে। বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫০টি।  বেওয়ারিশ লাশ গোসল করানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭টি। এ ছাড়া চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস মিলে সপ্তাহে দুদিন ঢাকা শহরের বিভিন্ন বস্তি এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অসহায়, এতিম ও দরিদ্রদের শিক্ষার জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ৯টি হোমে (এতিমখানায়) চারশোর বেশি এতিমের থাকা, খাওয়া, পোশাক ও লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে আঞ্জুমান মুফিদুল। দেশের বিভিন্ন স্থানে এতিম, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কারিগরিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। সম্প্রতি আঞ্জুমান জামিলুর রহমান বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি ও সহসভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ২০০০ সাল থেকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ট্রাস্ট ফান্ড নামে একটি ফান্ড চালু করে। এই ফান্ডে যারা বড় অঙ্কের অর্থ দান করেন তা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হয়। এই টাকার লভ্যাংশ কীভাবে কী করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেন দাতা। সে অনুযায়ী এসব অর্থ ব্যয় করা হয়।

এ ফান্ডের বিষয়ে তিনি জানান, ফান্ডের মুনাফার ২০% মূলধনের সঙ্গে যোগ হবে, ৭৫% দাতার অভিপ্রায় অনুযায়ী এবং ৫% সার্ভিস চার্জ হিসেবে আঞ্জুমানে ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক ট্রাস্ট ফান্ডের মূলধন আজীবন থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ট্রাস্টি ও সহসভাপতি অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মিডিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্ম আজিম বখ্শ।