ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত রেলওয়ে সুপার মার্কেট ঈদের পর উচ্ছেদ করা হবে। এজন্য মার্কেটের দোকান মালিকদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি দোকানগুলোতে লাল কালি দিয়ে ক্রস দাগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সূফি নূর মোহাম্মাদ ও বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে উচ্ছেদের ঘোষণা দেন।
রেলওয়েসহ একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ বছর আগে রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশের মালবাহী ট্রেনের মালমাল লোড-আনলোড ও যানবাহন চলাচলের জায়গা দখল করে এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করেন। দু’একজন সরকারি নিয়ম মেনে লাইসেন্স নিলেও বেশির ভাগই ছিল অবৈধ। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বারবার বলা হলেও নেওয়া হয়নি লাইসেন্স। দখলদাররা সেখানে মার্কেট বানিয়ে ভাড়া আদায় করে। পরে মালবাহী ট্রেনের পণ্য লোড-আনলোডের জন্য জায়গা প্রয়োজন হওয়ায় মার্কেটটি উচ্ছেদের জন্য গত ৫ এপ্রিল সকালে মাইকিং করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মাইকিংয়ে বলা হয়, ১০ এপ্রিলের মধ্যে স্ব-উদ্যোগে দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া না হলে বিনা নোটিসে উচ্ছেদ করা হবে। আকস্মিক উচ্ছেদ মাইকিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে স্থানীয় এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাসের বাড়িতে অবস্থান নেয়। গতকাল রবিবার সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মার্কেট উচ্ছেদ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে এবং স্থানীয় এমপি নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথার অনুরোধে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। তবে রোজার ঈদের পর অবশ্যই মার্কেট উচ্ছেদ করার ঘোষণা দেন রেলের ডিআরএম।
ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পুরনো রেলওয়ে সুপার মার্কেটটি ঈদের আগে উচ্ছেদ অভিযানে আসা রেলওয়ের ঠিক হয়নি।’
রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সূফি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘স্থানীয় এমপি ও পৌর মেয়রের অনুরোধে ঈদের জন্য উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে ঈদের পরেই মার্কেটটি উচ্ছেদ করা হবে। কিছু ব্যবসায়ী রেলওয়ে থেকে লাইসেন্স নিয়েছে। তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য ঈশ্বরদী স্টেশনের পশ্চিম পাশে মার্কেট তৈরি করা হয়েছে। বারবার বলার পরও তারা সেখানে যাচ্ছে না।’