আগুনের প্রভাব ফুটপাতের দোকানে

ঈদুল ফিতরে উৎসবের কেন্দ্রে থাকে নতুন পোশাক। ঈদ ঘিরে প্রতি বছর দেশে পোশাকের দামও বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রাজধানীর স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাতের দোকান। ফুটপাতের দোকানিরা সাধারণত বঙ্গবাজার থেকে পোশাক সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি আগুনে পুড়ে গেছে বঙ্গবাজার। এতে করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেড়ে গেছে পোশাকের দাম। ফলে পোশাক কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার ফকিরাপুল, গুলিস্তান মোড়ের চারপাশ, নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়ক, দৈনিক বাংলা মোড়, গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকা ও মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেশি দামে পোশাক বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এতে ঈদের পোশাক কিনতে সাধারণ মানুষকে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ফুটপাতে বিক্রি হওয়া পোশাকের দাম গত বছরের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এরই মধ্যে বঙ্গবাজারে আগুন লেগে দোকান পুড়ে যাওয়ার কারণে সব ধরনের কাপড়ের দাম বেড়েছে আরও ২০-৩০ টাকা। প্রথম রোজায় ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, ২০০ টাকার পায়জামা ৩০০-৩৫০, ৪০০ টাকার শার্ট ৫০০, ৩৫০ টাকার প্যান্ট ৫০০ এবং ১০০ টাকার টি-শার্ট ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা মোড়ের ফুটপাতের দোকানি কামরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের বাজারে জামা-কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। প্রতি বছরের মতো এবারও রোজার শুরু দিকে সব ধরনের কাপড় ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। তবে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার ফলে আমাদের দোকানে মালামাল তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোর কারখানাতে প্রতি পিসে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি।

গুলিস্তান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছেলেদের জন্য শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, জুতা, বেল্ট, ঘড়ি, চশমা, টুপিসহ হরেকরকমের পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের পোশাক থ্রি-পিস, টু-পিস, স্কার্ট, লেহেঙ্গা বিক্রি করতেও দেখা গেছে।

আমিনুল নামে এক দোকানি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফুটপাতে ৫ বছর দোকানদারি করছি। এবারের মতো অন্য বছর এতটা দাম বাড়তে দেখিনি। আমরা সবসময় বঙ্গবাজারসহ ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে মোকাম করতাম। যেহেতু এবার বঙ্গবাজার আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই পোশাক পেতেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে আমাদের।’

পেশায় পোশাকশ্রমিক শামিমা-আরিফ দম্পতি ফকিরাপুল এলাকার ফুটপাত থেকে ঈদের পোশাক কেনাকাটা করছিলেন। তারা বলেন, গত বছর ৪০০ টাকায় যে থ্রি-পিস কিনেছি এবার সেটি ৬০০-৭০০ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না। শুধু থ্রি-পিস নয়, সব পোশাকের দামই ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে।’