হাজার কোটি টাকা ঢেলেও হাওর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ হয় না

প্রকল্পের পর প্রকল্প আর হাজার কোটি টাকা বন্যায় তলিয়ে যাওয়া যেন সিলেটবাসীর জন্য নিয়মিত খবর। একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০১১ সালে 'হাওর এলাকায় আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পে' নামের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ৫৮৭ কোটি টাকা খরচ করে।

ওই প্রকল্পে ৯ বছরে ১৩ জন প্রকল্প পরিচালক বদল করে রেকর্ডও হয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম! কাজের কাজ তো কিছুই হলো না, বরং গেলো বছর বন্যায় ডুবেছে সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন। এবার নতুন করে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বন্যা ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন জরুরি সহায়তা প্রকল্প’ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অধীনে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ২৪টি উপজেলার ৮০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঋণ দেবে ৫৫৯ কোটি টাকা। বাকি ১৪০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে। প্রকল্পটি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, ৮০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনঃ নির্মাণের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, হাওর এলাকায় ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ডুবন্ত বাঁধ সিসি ব্লক দিয়ে আবৃত করে ডুবন্ত বাঁধের টেকসই উন্নয়ন , ৪ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীর তীর এবং সংলগ্ন মূল্যবান জমি ও সম্পত্তি রক্ষাকরণ, নিষ্কাশন অবকাঠামোর (রেগুলেটর) মেরামত ও পুনঃ নির্মাণের মাধ্যমে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সমন্বিত কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত বন্যা ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় স্থাপন।

আর যা যা হবে: ১৮.৪১ কিলোমিটার সিসি ব্লক আর্মারিংসহ সাবমার্সিবল বাঁধ নির্মাণ, নদী তীর রক্ষার কাজ- ৪ কিলোমিটার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ- ৮০ কিলোমিটার, বিদ্যমান রেগুলেটর/স্লুইস মেরামত- ৩৪ টি, রেগুলেটর/স্লুইসের পুনঃনির্মাণ- ৪টি, গ্রাম প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ-১টি, ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল দ্বারা গর্ত, পুকুর ও বরোপিট ভরাটকরণ - ২৭.৭৭ লক্ষ ঘনমিটার (জ) ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ- ১৫টি।

প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি)-তে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পানি সম্পদ সেক্টরের অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে, নদী তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ করে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন করা। এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ২৪টি উপজেলায় অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনঃ নির্মাণ, ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ডুবন্ত বাঁধ সিসি ব্লক দিয়ে আবৃত করা এবং নদী তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীর তীর সংলগ্ন মূল্যবান জমি ও সম্পত্তি রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বর্ণিত প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত 'বন্যা ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন জরুরি সহায়তা প্রকল্প' শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ৬৯৯ কোটি ৮১ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এপ্রিল ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের নিমিত্ত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পাঠানো হয়েছে।