৯ সিনেমা বনাম ৬৬ হল: ঈদে এত সিনেমা চলবে কোথায়?

ঈদের সিনেমা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোরজোড় শুরু হয়ে গিয়েছে চিত্রপাড়ায়। ঈদ উৎসবে একটা বড় দর্শক মহল থাকে সিনেমা দেখার। আর তাই সবাই বছরের দুই ঈদকে টার্গেট করেই বেশির ভাগ ছবি মুক্তি দিতে চান। বড় উৎসবে ছবি মুক্তি দিয়ে একটা বিশাল শ্রেণি ধরতে চান প্রত্যেকেই।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, ঈদে এখন পর্যন্ত মুক্তির মিছিলে রয়েছে ৭ টি সিনেমা। এরমধ্যে রয়েছে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’, ‘কিল হিম’, ‘জ্বীন’, ‘পাপ’, ‘প্রেম প্রীতির বন্ধন’, ‘আদম’ ও ‘লাল শাড়ি’। এছাড়াও মুক্তির মিছিলে ‘লোকাল’, ‘শত্রু’ যোগ হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সিনেমাগুলোতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন শাকিব খান-বুবলী, অনন্ত জলিল-বর্ষা, সজল-পূজা চেরী, রোশান-ববি, জয় চৌধুরী-অপু বিশ্বাস, ইয়াশ-ঐশী, সাইমন সাদিক-অপু বিশ্বাস। আরও রয়েছেন আদর-বুবলী, বাপ্পী-মিতু জুটিও।

একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত হল নেই দেশে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, এত সিনেমা মুক্তি পাবে কোথায়? বর্তমানে সিঙ্গেল স্ক্রিন চালু রয়েছে প্রায় ৪৫টির মত এবং ব্লকবাস্টার ও সিনেপ্লেক্সের সংখ্যা ২১, সব মিলিয়ে ৬৬টি হল চালু বলা যেতে পারে। ঈদকে ঘিরে বন্ধ থাকা অনেক হলই চালু হয়, সেদিক থেকে ধারণা করা যাচ্ছে ঈদে হল সংখ্যা বেড়ে এক’শ কিংবা দেড় শতাধিক হতে পারে। এবারের মত এত সিনেমা এর আগে কখনো প্রদর্শক সমিতিতে জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।

প্রদর্শক সমিতির সূত্র মতে, ঈদের আগে অনেক ছবিই মুক্তির মিছিলে থাকে কিন্তু এরমধ্যে কিছু সিনেমা হয়তো নিজে থেকেই সরে যাবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল মঙ্গলবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ৭টির মত সিনেমা এসেছে মুক্তির জন্য। যেহেতু পর্যাপ্ত হল নেই একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি দেওয়া তো সম্ভব না। সব পরিচালকই চায়, তাদের সিনেমা ঈদে মুক্তি দিতে। যেহেতু এখন হাতে কিছুদিন সময় আছে এরমধ্যে অনেকেই হয়তো নিজ থেকে সরে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সময়ে অনেক বন্ধ হলই খুলে যায়, এবারো তাই হবে। তবে যত সিনেমা এসেছে এতগুলো চালানোর মত হবে না। এরমধ্যে আরও কয়েকটা নতুন সিনেমা মুক্তির কথা শুনেছি। এই সপ্তাহ গেলেই চূড়ান্ত আপডেট বলা যাবে।’

বাংলাদেশ সিনেমা হল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘আমি এখনো পর্যন্ত কোনো সিনেমার ট্রেলার বা কিছুই দেখিনি তাই এখনো বলতে পারছি না আমার এখানে কোনটা চালাবো। এরমধ্যে কয়েকজন পরিচালক ফোন করেছেন, কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার বসবো, দেখবো এরপর হয়তো বলতে পারবো।’

মুক্তির মিছিলে ৯ সিনেমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তির মিছিলে এতগুলো সিনেমা থাকলেই তো হবে না, সব তো আর মুক্তি পাবে না। আর মুক্তি পাবে যে তেমন হলই তো নেই। ঈদের সিনেমা যেহেতু সব মিলিয়ে হয়তো ১০০ এর মত হলে সিনেমা চলবে, বন্ধ হল কিছু খুলবে। আর এত সিনেমা হলেই হবে না, কোয়ালিটিফুল কন্টেন্ট লাগবে দর্শক হলে আনতে। পরাণ, হাওয়া সিনেমা নিয়ে যে হাইপ উঠেছে, দর্শক এসেছে তেমন কিছু কি হওয়ার মতো ও তো দেখছি না। আর মুক্তির আগেও অনেক সময় অনেক কিছু বলা যায় না, মুক্তির তিন-চারদিন গেলে তারপর অবস্থা বুঝা যায়।’

ঈদ উৎসবে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমা মুক্তির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পরাণ, হাওয়া সিনেমার মত আবার একটা জোয়ার আসলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হতো। যেহেতু আরও কিছুদিন সময় আছে এখনই ঈদের সিনেমা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলতে পারছি না। যেহেতু আমাদের ২০ টির মত স্ক্রিন আছে তাই আগ্রহ থাকবে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’, ‘কিল হিম’, ‘জ্বীন’, ‘পাপ’ ছবিগুলো চালানোর।’