মুন্সীগঞ্জ সদরের মিঝিকান্দি ভাষানচর গ্রামে ডাকাতদের হামলায় নয়, ছেলেরাই কুপিয়ে হত্যা করেছে বাবা নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে (৪৭)। মাকে মারধর করার ক্ষোভে বসতঘরের ভেতর ৩ ছেলেসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিন জন মিলে নুরুল ইসলামকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত নুরুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত সুবেদ আলী হাওলাদারের ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আল-মামুন।
তিনি জানান, রবিবার রাত ৩টার দিকে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবা নুরুল ইসলামকে ৩ ছেলেসহ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর হত্যাকা- ধামাচাপা দিতে সোমবার সকালে নুরুল ইসলামকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে ছেলেরা। এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে মেঘনা নদীতে ডাকাত দলের সদস্যরা হামলা চালিয়ে নুরুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে প্রচার চালায় তারা।
পুলিশ সুপার জানান, এর আগে রবিবার সকালে দাম্পত্য কলহের জের ধরে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমা বেগমকে মারধর করে। এতে আহত অবস্থায় স্ত্রী তাছলিমা শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকায় তার মেয়ের বাড়িতে চলে যান। আর নুরুল ইসলাম নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই দিন বিকেলে বোন হামিদা বেগমের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন নুরুল ইসলাম।
মাকে মারধর করায় ছেলে সুমন হাওলাদার (৩০), মোহাম্মদ আলী হাওলাদার (২৩) ও রাসেল হাওলাদারের (২০) মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত সোমবার দুপুরে পুলিশ নিহতের ২ ছেলে সুমন হাওলাদার ও মোহাম্মদ আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত তথ্য উঠে আসে। নিহতের অপর ছেলে রাসেল হাওলাদার পলাতক রয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের বোন হামিদা বেগম সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সুমন ও মোহাম্মদ আলীকে আদালতে পাঠানো হয়।