বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সদস্য ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২৩ সালে অভিন্ন গঙ্গা নদী থেকে ভালো পরিমাণে পানি পেয়েছে।
তিনি বাসসকে বলেন, ৪০ বছরের (১৯৪৯-১৯৮৮) ইতিহাসে এ বছর বাংলাদেশ ভালো পানি পেয়েছে; তবে মার্চের প্রথম প্রান্তিকে ন্যায্য অংশের বিপরীতে কিছুটা কম পানি পেয়েছে।
তিনি বলেন, যৌথ নদী কমিশন মে মাসে একটি বৈঠকে বসবে সেখানে, ভারত পানি সরিয়ে নিচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হবে।
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ অনুসারে, বাংলাদেশ-ভারত ১ জানুয়ারি-৩১ মে পর্যন্ত প্রতি ১০ দিনের পানি ভাগ করে নেয়।
ফারাক্কা পয়েন্টে পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে, বাংলাদেশ-ভারত উভয়ই সমান পানি পাবে (৩৫,০০০ কিউসেক করে)। ফারাক্কা পয়েন্টে পানির পরিমাণ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে, ভারত প্রবাহের ভারসাম্য পাবে। সে সময় বাংলাদেশের অংশ হবে ৩৫ হাজার কিউসেক। ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রাপ্যতা ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে, বাংলাদেশ প্রবাহের ভারসাম্য পাবে এবং ভারতের অংশ হবে ৪০ হাজার কিউসেক।
জেআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ১০ দিনে পানির প্রাপ্যতা ছিল যথাক্রমে ৮৫,৩১৬ কিউসেক, ৭০,৮২৭ কিউসেক এবং ৬৯,৯৯০ কিউসেক। ফেব্রুয়ারির প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ১০ দিনে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬৭,৩৬৪ কিউসেক, ৫৯,৩৭৬ কিউসেক এবং ৪৭,৮৯১ কিউসেক। অন্যদিকে, মার্চের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ১০ দিনে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৪২,৩৭২ কিউসেক, ৪১,৩৬৮ কিউসেক এবং ৪০,৩৯০ কিউসেক পেয়েছে।
জেআরসি জানায়, এ বছরের এপ্রিলের প্রথম ১০ দিনে বাংলাদেশ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ৪২,০৭১ কিউসেক পানি পেয়েছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি ৩০ বছরের পানিবণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে এবং ভাটিতে নদী প্রবাহে বাংলাদেশের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের জেআরসি ১৯৭২ সালে পারস্পরিক স্বার্থে অভিন্ন সীমান্ত এবং আন্তঃসীমান্ত নদী সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি দ্বি পাক্ষিক প্রক্রিয়া হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।