মঙ্গল শোভাযাত্রায় হামলার হুমকি দিয়ে লেখা চিরকুট নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল সকালে রমনা বটমূল প্রাঙ্গণে চিরকুট নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু দেখছেন না জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, কোনো দুষ্টু পোলাপান অতি উৎসাহী হয়ে ওই চিরকুট লিখেছে। যে থ্রেট, চিরকুট দিয়েছে, তা দেওয়া হয়েছে দাজ্জাল বাহিনীর নামে। দাজ্জাল বাহিনী নামে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি সংগঠন নেই, কোনো বাহিনীও নেই।’
সাংবাদিকদের ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারাও জানেন, আপনারাও আমাদের মতো সত্যের সন্ধান করেন। বাংলাদেশে দাজ্জাল বাহিনী পাওয়া যায়নি। এখানে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে।
এবারের পহেলা বৈশাখে জঙ্গি হামলার সরাসরি কোনো হুমকি নেই জানিয়ে খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বাঙালি হিসেবে তিনি মনে করেন, দুই-একটা বোমা দিয়ে বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কমিশনার আরও জানান, বর্ষবরণের আয়োজন নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুলিশের ২৭শ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
এর আগে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন র্যাব প্রধান এম খুরশীদ হোসেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চিরকুটটি আমি দেখেছি ও পড়েছি। মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষ এই কাজ করেছে। এটা আসলে কোনো জঙ্গি হুমকির ঘটনা না। তারপরও আমরা সতর্ক রয়েছি। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর টিএসসি, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা বটমূলসহ যেসব এলাকায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হবে, সেসব এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, চেকপোস্ট ও অবজারভেশন পোস্টসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের মূল ভূমিকায় থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাবেকরা।