দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন থেকে বিভাগীয় শহর রংপুর রুটে চলাচলকারী ডেমু ট্রেনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার থেকে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকা ডেমু ট্রেনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে সচল করা হয়। ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে চলাচল শুরু করে। ৬ মাস ৬ দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে ট্রেনটি পার্বতীপুর লোকোশেডে রাখা হয়েছে।
পার্বতীপুর রেলস্টেশনের মাস্টার মো. রফিক চৌধুরী জানান, পার্বতীপুর-রংপুর রুটে একটি ডেমু ট্রেন চলাচল করত। প্রতিদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে এটি পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে যেত এবং সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে রংপুরে পৌঁছাত। আবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রংপুর থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুরে এসে পৌঁছাত। কিন্তু ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেনটির চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।
পার্বতীপুর লোকোশেডের ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই/লোকোশেড) মো. কাফিউল ইসলাম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ত্রুটিমুক্ত হলে আবারও ট্রেনটি চলাচল করবে। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ৩০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার ৩টি বগির প্রতিটি ডেমু ট্রেনে ১৪৯ জন বসার ও ১৫১ জনের দাঁড়িয়ে চলাচলের ব্যবস্থা ছিল। পার্বতীপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত টিকিটের মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পার্বতীপুর-রংপুর রেলপথে ছিল ৩টি রেলস্টেশন (খোলাহাটি, বদরগঞ্জ, রংপুর)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডেমু ট্রেন (১০০২৭ মোটর কার/ট্রেইলর কার ১০০২৮) পার্বতীপুর ডিজেলশপে ওভারহোলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। চীনের মাধ্যমে প্রতিটি ডেমু সচল করতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা থাকলেও মাত্র ৫০ লাখ টাকায় তা ঠিক করা হয়েছিল।
তারা আরও জানান, ২০২০ সালে (করোনা শুরু মার্চে) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরেকটি ডেমু ট্রেন (১০০২৫ মোটর কার/ট্রেইলর কার ১০০১৩) পার্বতীপুর লোকোশেডে রাখা হয়েছে। ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেনগুলো চীনের তানশাং ইন্টারন্যাশনাল এবং ডানিয়াল টেকনিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নির্মিত। স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য এগুলো আমদানি করা হয়। ট্রেনগুলো পরিচালিত হয় কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে। এসব সফটওয়্যারের বিষয়ে চীনা কোম্পানি বিশেষ গোপনীয়তা অবলম্বন করে। ট্রেন হস্তান্তর করা হলেও এই সফটওয়্যার হস্তান্তর করা হয়নি কিংবা এ-সম্পর্কে দেশীয় প্রকৌশলীদের অবগতও করা হয়নি। প্রতিটি ট্রেনে ৪০টি মডিউল রয়েছে। প্রতিটি মডিউলের দাম প্রায় ৭ লাখ টাকা। এসব মডিউল সেটআপ দিতেন চীনা প্রকৌশলীরা। ২০১৩ সালে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয়। চীনা প্রকৌশলীরা প্রযুক্তি হস্তান্তর না করায় একটার পর একটা ট্রেন বিকল হতে থাকে।