রাজধানীর শান্তিনগরে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়া গৃহকর্মী জান্নাতের (১৩) মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পুলিশের করা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই কিশোরীর মাথায় কাটা জখম রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. তৌহিদা বেগম। এর আগে গত রবিবার দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় আগুনে পুড়ে যায় জান্নাত। সেদিনই তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরদিন সোমবার বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
মর্গ সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এসবিএস সফট ও ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। জান্নাতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন পল্টন থানার এসআই সুইটি। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতদেহের কপালের ওপরে মাথার সামনে দুই ইঞ্চি লম্বা কাটা জখম, মাথার ডান পাশে হালকা ফুলা। এ ছাড়া সারা শরীর পোড়া। মৃত্যুর আগে কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মৃত জান্নাতের বাবা আবু বকর জানান, তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেউচিয়া গ্রামে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জান্নাত ছিল দ্বিতীয়। মাত্র দুই মাস আগে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় কাজ নিয়েছিল জান্নাত। তার দগ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনে গত সোমবার ভোরে ঢাকায় আসেন তিনি। এরপর বার্ন ইনস্টিটিউটের বিছানায় মেয়েকে দেখতে পান। তবে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।
কীভাবে জান্নাত দগ্ধ হয়েছিল সে বিষয়ে জানতে চাইলে তার বাবা বলেন, ‘শুনেছি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় রান্নাঘরে গরম পানি করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে যায় সে। তবে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার মেয়ে মরে গেছে, মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না।’