গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ শিরোপা জয় উদযাপন করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গতকাল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ইমরানের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে গোপীবাগ জায়ান্টসরা। ম্যাচ শেষে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শিরোপা। এর আগেই অবশ্য নিশ্চিত হয়েছিল দুই মৌসুম পর তাদের প্রিমিয়ার লিগে ফেরা। এখন প্রশ্ন, এই ফেরাটা ভালোভাবে হবে তো ঐতিহ্যবাহী দলটির?
২০ ম্যাচে ১৬ জয় ৩ ড্র আর ১ হারে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দুই মৌসুম পর প্রিমিয়ার লিগে এসেছে ব্রাদার্স। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করেছে বাফুফের এলিট অ্যাকাডেমি দল। যেহেতু এই দলটির ক্ষেত্রে প্রমোশন-রেলিগেশন নেই, সেহেতু ব্রাদার্সের সঙ্গী হয়ে প্রিমিয়ার লিগে নাম লিখিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে লিগ শেষ করা গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের শীর্ষ লিগে আসাটা প্রথমবারের মতো। তবে ব্রাদার্সের জন্য এই শিরোপা মাহাত্ম্য অনেক। শীর্ষ লিগ শুরুর পর ব্রাদার্সকে কখনই কাটা পড়তে হয়নি। যেটা তাদের পড়তে হয় ২০২০-২০২১ মৌসুমে। আর্থিক এবং ইমেজ সংকটের কারণে ব্রাদার্স সেবার পারেনি ভালো দল গড়তে। যদিও অবনমিত হওয়ার পরও ব্রাদার্স বাফুফের কাছে দাবি জানিয়েছিল প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার। সেটা বাফুফে মেনে না নেওয়ায় গত চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে অংশই নেয়নি ব্রাদার্স। তবে এবার ভালো দল গড়ে অংশ নিয়েই নামের প্রতি সুবিচার করেছে ব্রাদার্স। তারপরও শঙ্কা থেকে যায়। এই প্রত্যাবর্তনটা কি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে ব্রাদার্স কর্তাদের। নাকি আগের মতোই যেনতেন দল গড়ে আরেকবার অবনমনের শঙ্কায় থাকতে হবে?
এক সময় ব্রাদার্স ছিল ঘরোয়া ফুটবলের তৃতীয় শক্তিশালী দল। করপোরেট দলগুলোর দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় ব্রাদার্স সেই স্থান হারিয়েছে। তাছাড়া নড়বড়ে নেতৃত্বের কারণে ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও ধুঁকতে হচ্ছে তাদের। দলটির দীর্ঘদিনের ম্যানেজার আমের খানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ব্রাদার্সকে কেমন রূপে দেখা যাবে আগামী মৌসুমে? জবাবে বাফুফের এই নির্বাহী সদস্য বলেন, ‘আসলে এখন অনেকগুলো করপোরেট দল চলে এসেছে। তাদের ফান্ড নিয়ে ভাবতে হয় না। আমরা এলাকাভিত্তিক ক্লাব। তাই ফান্ডের সমস্যা সবসময়ই থাকে। তাই আগ বাড়িয়ে বলতে পারধিছ না যে অনেক ভালো দল গড়ব। তবে ওপরের দিকে চোখ রেখেই চেষ্টা করব দল গড়ার।’
ফুটবলে ব্রাদার্সের হতশ্রী দশার জন্য দায় আছে এই আমের খানসহ ক্লাবের অন্য সংগঠদেরও। বাফুফের বর্তমান কমিটিতে তিনি ছাড়াও আছেন আরও দুই কর্মকর্তা। একজন ব্রাদার্সের সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমেদ মহি আবার বাফুফের সহ-সভাপতি। অপর জন্য বাফুফের নির্বাহী সদস্য মিরাজুর রহমান মিরাজ। তিন কর্তা পদ দখল করে থাকলেও ভালো দল গড়ায় উদ্যোগ নেননি বলেই অবনমনের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে। মহি অবশ্য দায় পুরোপুরি নিতে নারাজ। তিনি দুষছেন করোনা পরিস্থিতিকে, ‘করোনার কারণে সে সময় আমরা ভালোমানের বিদেশি আনতে পারিনি। যখন রেলিগেশন হই, তখনই করোনার বিস্তার ছিল। করোনার মধ্যে বিশ্বের অনেক লিগে রেলিগেশন বন্ধ ছিল। আমরাও বাফুফেকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তবে তারা সেই অনুরোধ রাখেনি। যাই হোক, দল যেহেতু আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে। এরজন্য আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমাদের দুর্দিনে অনেক সহায়তা করেছে। আগামী মৌসুমে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ব্রাদার্স ক্লাবের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। এরজন্য ব্রাদার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এবার যদি ভালো করতে না পারি, তাহলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’
আবাহনী, মোহামেডানের পরই একটা সময় উচ্চারিত হতো ব্রাদার্সের নাম। তবে কালে কালে সেই অবস্থান হারিয়েছে তারা। এই ফেরাটা যাতে ভালো হয়, এটাই প্রত্যাশা।