দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের পবিত্র এই উৎসব উদযাপনে চলছে নানা প্রস্তুতি। পাশাপাশি ঈদের দিন নামাজ আদায়ের জন্যও চলছে মাঠ প্রস্তুতের কাজ। দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। আর এজন্য জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাঠের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের সাজসজ্জার কাজ।
এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ও প্রধান বিচারপতিসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনরা অংশ নেবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবার জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সাজসজ্জার দায়িত্ব দিয়েছে পিয়ারো সরদার অ্যান্ড সন্স নামে একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানকে। দরপত্রে ৮০ লাখ টাকা দর দিয়ে এই কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার ঈদগাহের প্যান্ডেলে নামাজ আদায় করতে পারবেন ৩৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৩০০ জন ভিআইপির জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদের জন্য থাকবে ফ্যানের ব্যবস্থা। ৫ হাজার নারীরও নামাজের জায়গা করা হয়েছে। প্যান্ডেলের বাইরেও নামাজের ব্যবস্থা থাকছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতির মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ। আগামীকাল (আজ) ডিএসসিসির মেয়র মহোদয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করবেন। নিরাপত্তাসহ সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তঃসংস্থাগুলোর সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সংস্থাগুলো যার যার দায়িত্ব পালন করবে।’
সরেজিমনে দেখা যায়, প্যান্ডেলে ঢাকা পড়েছে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। কয়েকদিন আগে মাঠে যে বাঁশের স্তূপ ছিল, সেগুলো প্যান্ডেলে যুক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষে বাঁশের খুঁটি বসানোও শেষ হয়েছে। এখন চলছে ফটক তৈরির কাজ। ঈদগাহ মাঠের মাঝ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত চারটি খাটাল (খুঁটির সারি) বসানো হয়েছে। পুরো মাঠে ১৬টি খাটাল বসানো হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহের ৩টি ফটক করা হচ্ছে। এসব ফটকের একটি ভিআইপিরা ব্যবহার করবেন। আর অন্য দুটির একটি সর্বসাধারণ এবং আরেকটি নারীরা ব্যবহার করবেন।
জাতীয় ঈদগাহের প্যান্ডেল তৈরির কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক জানান, ঠিকাদারের নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন তারা। গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় ঈদগাহের প্যান্ডেল নির্মাণকাজে যুক্ত রয়েছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে দৈনিক ৫০ জন শ্রমিক ঈদগাহ প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। ঈদের নামাজ শেষে আবার সব কিছু খুলে নিয়ে যাবেন তারা। জাতীয় ঈদগাহ মাঠকে পরিষ্কার করে আগের রূপে রেখে যাওয়া তাদের কাজের অংশ।
তারা আরও জানান, এবার ১০ রমজানের পর থেকে জোরেশোরে কাজ হয়েছে। এখন শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। পিয়ারো সরদার অ্যান্ড সন্স ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের কাজ শুধু প্যান্ডেল নির্মাণ করা। ২৩-২৪ রোজার মধ্যেই আমরা প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যে প্যান্ডেল করা হয়েছে এখানে প্রায় ৪০ হাজার লোক নামাজ আদায় করতে পারবেন।’