বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময়ের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুই মেয়াদে টানা ১০ বছর ৪১ দিন দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিয়েছেন।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
এর আগে, বঙ্গভবনে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে রাজসিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এসময় রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
ফুলে সজ্জিত রাষ্ট্রপতির গাড়ি বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার সময় গোলাপের পাপড়ি ছিটানো হয়। এ সময় তাকে এসকর্ট দেয় পুলিশের অশ্বারোহী দল।
আবদুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত নিজ বাসা ‘রাষ্ট্রপতি লজে’ উঠবেন। সেখানে পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি মুক্ত হচ্ছি। এখন আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ফ্রিলি একটু মুভ করতে পারবো। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরও কথা হবে, এখনও তো বঙ্গভবন থেকে বের হতে পারিনি। বের হলে অনেক কথা হবে। আপনার আইসেন সময় সময়, তখন প্রাণ খুলে, মন খুলে কথা বলবো।
‘দেশের মানুষ বলে আপনি একজন মাটি ও মানুষের রাষ্ট্রপতি ছিলেন’ এর জবাবে আবদুল হামিদ বলেন, দেখেন আমি সারা জীবন রাজনীতি করেছি মানুষের জন্য। সুতরাং মানুষের বাইরে আমার কোনো চিন্তা ছিল না এবং কোনদিন থাকবেও না। আমি সকল রাজনীতিবিদদের এই কথাই বলবো এই দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে তারা যেনো রাজনীতি করে। তাহলেই রাজনীতিটা আরও সুন্দর হবে। এবং সেটা দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে আমি প্রত্যাশা করি।
নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে আপনার কোনো মেসেজ আছে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আবদুল হামিদ বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি আমার মেসেজ কি, ওনি ওনার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে সুষ্ঠুভাবে পালন করবে এটাই সারা জাতির প্রত্যাশা, আমারও।
মো. আবদুল হামিদ প্রথম দফায় ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
এর আগে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত মো. জিল্লুর রহমান বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর বেশ কিছুদিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।