একদিন আগেও ভ্যালেন্তিন কাস্তেয়ানোসকে চিনত না কেউ। তিনি আর্জেন্টাইন তাও জানা ছিল না অনেকের। অথচ এক রাতের ব্যবধানে রীতিমতো বিশ্বকাপ জয়ী দলে খেলার স্বপ্ন দেখে ফেলছেন ২৪ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তরুণ। রাতটিও রূপকথার মতো কেটেছে তার। ঘরের মাঠে জিরোনার হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের জালে একাই চার গোল দিয়েছেন। তার এক হালিতে রিয়ালকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগায় খেলতে আসা জিরোনা। এমন দিনে এই শতাব্দীতে লা লিগায় রিয়ালের জালে চার গোল দেওয়া একমাত্র ফুটবলারের মুকুট পরেছেন কাস্তেয়ানোস। এছাড়া এই কীর্তি গড়া ফুটবলারদের তালিকায় তিনি ১০ম এবং ডিয়েগো মিলিতোর পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪ গোল। এই ফরোয়ার্ডের কীর্তিতে তালিকায় ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিয়ালে লিগ শিরোপা স্বপ্ন শেষই হয়ে গেছে। তাই সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়ালের গুরুগম্ভীর কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
কাস্তেয়ানোসের ডাক নাম ‘তাতি’। যুক্তরাষ্ট্রে খেলার সময় এই ডাক নাম পেয়েছেন। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় সেখানেই কেটেছে তার। মেজর লিগ সকারের গোল্ডেন বুটও জিতেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির মালিক পক্ষ সিটি গ্রুপের ক্লাব নিউ ইয়র্ক সিটি এফসিতে ২০১৯ থেকে ১০১ ম্যাচে করেছেন ৪৯ গোল। অথচ তাতি পুরোদস্তুর আর্জেন্টাইন। কিন্তু তার ক্যারিয়ারে তাকালে তার রেশ পাওয়া যাবে না। যুব ক্যারিয়ার থেকেই তিনি দেশের বাইরে। আর্জেন্টিনার মেনদোজাতে জন্ম নেওয়া কাস্তেয়ানোসের ফুটবলে হাতেখড়ি তার শহরের ক্লাব ইন্দিপেন্দিয়েন্তে রিভাডাভিয়াতে। ক্লাবটি আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় সারির লিগে খেলে। ২০১৭ থেকে যুব ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাতি দেশের বাইরে। চিলির ইউনিভার্সিদাদ চিলির দ্বিতীয় দল, উরুগুয়ের টর্ক ক্লাবে খেলেন দুই বছর। ২০১৮-তে ধারে নিউ ইয়র্ক সিটি এফসিতে যোগ দিয়ে পরের বছর সেখানেই থিতু হন। এরপর থেকে গত বছর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কেই ছিলেন। গত বছর জুলিয়ান আলভারেজ ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার পর নাম্বার নাইন পজিশনে কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো তাকে রিভার প্লেটে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেক কিছু মেলানো যায়নি বলে ব্যর্থ হন গ্যালার্দো। পরে ধারে জিরোনা তাকে নিয়ে আসে। লা লিগায় ২৯ ম্যাচ খেলে রিয়ালের বিপক্ষে চারটিসহ করে ফেললেন ১১টি।
তবে এখন হয়তো আর পিছু ফিরে তাকাতে হবে না কাস্তেয়ানোসকে। আর্জেন্টিনার শক্ত ফরোয়ার্ড লাইনের ভিড়ে তার এখনই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবুও রিয়ালের জালে চার গোল দেওয়া ফরোয়ার্ডের দিকে অবশ্যই চোখ রেখেছেন লিওনেল স্কালোনি। দেশের জার্সিতে কাস্তেয়ানোসের একমাত্র অভিজ্ঞতা ২০২০-এ আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলা। ২০২০ কনমেবল প্রি-অলিম্পিক টুর্নামেন্ট ও মেক্সিকোর বিপক্ষে দুটি মিলিয়ে মোট ৬ ম্যাচ খেলেছেন।
এর আগে দুবার (২০১৭-১৮ ও ১৮-১৯) লা লিগায় খেলা জিরোনা তিন মৌসুম পর স্পেনের প্রিমিয়ার লিগে ফিরেই দুই আর্জেন্টাইন ও দুই ব্রাজিলিয়ানকে দলে টানে। কাস্তেয়ানোস আর গোলকিপার গাজিনগা দুজনকেই আনে ধারে। এমনিতে ইউরোপিয়ান লিগ খেলেই ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে বা বিশ্বের অন্য লিগে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ইউরোপে খেলতে আসার নজির ব্যতিক্রম। দুই লিগের ভিন্নতা তাতির কাছেই বিশাল। এমন একটি লিগে ইতিহাসের সেরা ক্লাবের জালে চার গোল দেওয়ার পর আনন্দের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন এই তরুণ, ‘এমএলএস ও এই জায়গা পুরোপুরি আলাদা। এখানের ফুটবল অনেক উন্নত কারণ ইউরো অনেক জনপ্রিয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশ্বকাপে এই অঞ্চলের দলের জনপ্রিয়তা বেশি। তাই এই লিগগুলোরও ওজন অনেক বেশি। এখানে রিয়ালের বিপক্ষে গোল করা ছিল আমার স্বপ্ন। আর আমি করেছি চার গোল। আপনারাই ভেবে দেখুন আমার কী অনুভূতি হচ্ছে!’