এলএনজিতে দুই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সামিট-জেরা

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের অধীনে সামিট করপোরেশন এবং জেরার অধীনে জেরা-এশিয়ার, মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দুই বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ সমঝোতার মাধ্যমে সুলভ মূল্যে, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ সহ উপকূলে ও সমুদ্রতীর দূরবর্তীতে সংরক্ষণাগার ও পুনরায় গ্যাসীকরণ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জেরা-এশিয়ার সিইও তোসিরো কুদামা এবং সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের সিইও এবং এমডি আয়েশা আজিজ খান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিএসইসি চেয়ারম্যান, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং জাপানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি, জট্রো চেয়ারম্যান নোরিহিকো ইশিগুরোসহ সামিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান ও সামিট করপোরেশনের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ফয়সাল খান।

জেরা-এশিয়ার সিইও তোসিরো কুদামা বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্য অর্জনে জেরা সহায়তা করতে আগ্রহী এবং সেই উদ্দেশ সামিটের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। জ¦ালানি সরবরাহের উদ্দেশ্য অর্জনে, এই সমঝোতা একটি উল্লেখযোগ্য প্রথম ধাপ। জেরা সামিটকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহী।’

সামিটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘একটি দেশের জ্বালানি ব্যয়কেই এখন তার সমবৃদ্ধির মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়। উচ্চ সুদের হার, বিঘিœত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আর (জ্বালানি) বাজারের অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সামিট, জেরাকে সঙ্গে নিয়ে এলএনজির প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমাধানের প্রস্তাব করছে।’

বাংলাদেশ যখন এগিয়ে চলছে ২০২৬ সালের  উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের দিকে, সেই সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সম্মুখীন বাংলাদেশ। সামিট এবং জেরার এই যৌথ উদ্যোগ বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে চায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন আইএমএফ-এর আরএসএফ তহবিলের পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে, তুলনামূলক বেশি আমদানির কারণে যে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে ভারসাম্যহীনতা আছে, তা কমাতে সাহায্য করবে।

জেরা একটি বৈশ্বিক জ্বালানি কোম্পানি যার প্রধান দক্ষতা হলো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার পুরোটা জুড়ে কাজ করবার সক্ষমতা এবং যার ব্যাপ্তি এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি প্রকল্পে অংশগ্রহণ, (জ্বালানি) পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২% আউটস্ট্যান্ডিং শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে জেরা সামিটের করপোরেট মানদ- বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করে চলেছে যেমন, ডিকারবোনাইজেশন এবং দক্ষ অবকাঠামো নির্মাণ। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে, জেরা সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে আরও একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলশ্রুতিতে জেরা সামিটের ডিকারবোনাইজেশনের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।