নানা ধরনের শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া অসচ্ছল ১০ শিশুর বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার হবে আজ শুক্রবার রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে। বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক সোসাইটি ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে এসব শিশুকে হাসপাতালে রেখেই বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এ সময় তাদের ওষুধ ও খাবারসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করবে হাসপাতাল ও সোসাইটি কর্র্তৃপক্ষ।
হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন ও বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অর্থোপেডিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অব বাংলাদেশ অধ্যাপক ডা. সারওয়ার ইবনে সালামের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি চিকিৎসক দল আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব শিশুর জন্মগত ত্রুটির অস্ত্রোপচার করবে। এর আগে অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের শিশুদের জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসাবিষয়ক এক সেমিনার সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হবে। পরে চিকিৎসকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হবে।
এই অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিত্তহীন, নিম্নবিত্ত বা অসচ্ছল পরিবারের শিশু যাদের পেডিয়াট্রিক সার্জারি করা দরকার, তাদের জন্য এই ক্যাম্পের আয়োজন। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের জন্মগত ত্রুটি দূর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে জন্মগত ত্রুটি শিশুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। তারপরও এই সংখ্যা অনেক। ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, এক হাতে দুটি আঙুল নেই, জোড়া আঙুল, পা বাঁকা, মুগুর পা, পায়ের নিচের অংশ বাঁকা, পেছনে জোড়া লাগেনি এ রকম অসংখ্য জন্মগত ত্রুটির শিশু আছে। এসব শিশুর বিকলাঙ্গত্বের অভিশাপমুক্ত করার জন্য আমরা প্রতি বছর এ রকম একটা উদ্যোগ গ্রহণ করি।
ডা. লেলিন চৌধুরী জানান, এসব ত্রুটির অস্ত্রোপচারে একজন রোগীর খরচ হতো ন্যূনতম ৩০-৪০ হাজার ও সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা। অস্ত্রোপচারের আগে এসব শিশুকে অ্যানেসথেসিয়া ও তার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে রাখা, খাওয়া ও ওষুধ দিতে হয়। অপারেশনের ধরনের ওপর এসব রোগীকে কখনো ১-২ দিন, কখনো ৫-৭ দিন হাসপাতালে রাখতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন হয় অপারেশনের পর এক সপ্তাহ পরপর তিন মাস ব্যান্ডেজ বদলে দিতে হয়।