প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, রম্য লেখক, কবি ও সাংবাদিক আনিসুল হক ছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত আনিসুল হক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাকালে কবিতার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। সেই আসক্তি চরম রূপ লাভ করে বুয়েটের শিক্ষাজীবনে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমাকে কবি হতে হবে, যদি ফার্স্ট ক্লাস নাও পাই, ক্ষতি নেই।’
বুয়েটের শিক্ষার্থী আনিসুল হক তখন শুধু কবিতার ক্লাসের একনিষ্ঠ শিক্ষার্থীই ছিলেন না, সে সময় তিনি সক্রিয় ছাত্ররাজনীতির দীক্ষা নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, তিনি রাজনীতির কিছুই জানতেন না। কিন্তু বন্ধুদের আনুকূল্য পেয়েছিলেন। তার কথায় তার তেত্রিশজন বন্ধু যারা নিজেরাও রাজনীতি বুঝতেন না তারা তার দলে যোগদান করেন। বন্ধুদের নিয়ে তিনি মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতেন। অপর ছাত্র সংগঠনের আক্রমণের শিকার হয়ে রক্তও ঝরিয়েছেন আজকের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আনিসুল হক, ভাবা যায়!
রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি কিন্তু তার প্রথম প্রেম কবিতাকে ভুলে যাননি, এ সময়ই তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে’ প্রকাশ হয়। যার একটি সুন্দর আলোচনা লেখেন বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা। আনিসুল হক বুয়েটে কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা প্রমুখ বিখ্যাত কবিরা ছিলেন।
আনিসুল হকের তুমুল জনপ্রিয়তা লক্ষ্য করে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুয়েটের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইউকসু) নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন। মজার ব্যাপার হলো, এখানেও আনিসুল হক কবিতাকে আশ্রয় করেন। এক ছাত্রী হলে প্রার্থীরা একে একে যখন জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন আনিসুল হক বললেন, বক্তৃতা দেব না। কবিতা পড়ব।
‘পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা
আহত দারুণ বটে, আর্ত সব শিরা-উপশিরা।’
এবং ধন্য কবির বাণী! ছাত্রী হলের নারীরা তাকে পরাজিত হতে দেয়নি। মেয়েদের হলের ১৫৮টি ভোটের মধ্যে তিনি ১৫০টি পেয়েছিলেন। ছাত্রী হলে নিরঙ্কুশ ভোট লাভের ফলে তিনি নির্বাচনে জয়ী হন। কবিতা শুনিয়ে ভোট প্রার্থনার এমন ঘটনা বিরল। ভোটের মাঠে এহেন সাফল্যের পরও আনিসুল হক কিন্তু রাজনীতিতে মন সঁপে দেননি, আরও অনেক দিন কবিতাই ছিল প্রথম প্রেম!