জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল

অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ এক মাস পরীক্ষা-ওষুধেও সংকট

নানা সমস্যা আর অব্যবস্থাপনার মধ্যেই চলছে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল। জ¦ালানি তেলের বরাদ্দ না থাকার অজুহাতে গত প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালের চারটি অ্যাম্বুলেন্সই বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওষুধ সংকটের কারণে অধিকাংশ ওষুধই বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে রোগীদের। অধিকাংশ পরীক্ষাও বাইরের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে করতে হচ্ছে। এতে গরিব ও সাধারণ রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন। কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কার্যক্রম চলছে আগের ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন জয়পুরহাট ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন অন্তত সাড়ে ৩০০ রোগী। শয্যা না পেয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন অনেকে। এ ছাড়া কিছু ওষুধ হাসপাতালে পেলেও বেশিরভাগ ওষুধ রোগীদের বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালে প্যাথলজিস্ট যন্ত্রাংশ থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষা বাহিরের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করছেন তারা। এ ছাড়া প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো বন্ধ থাকার সুযোগে বাহিরের অ্যাম্বুলেন্সগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছে। ফলে স্থানান্তর করা রোগীকে বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আসে প্রায়ই। ইতিপূর্বে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা হয়। সম্প্রতি হাসপাতালে পোশাক পরিহিত ভুয়া নার্সকে আটকের পর থানায় মামলা হয়েছে। হাসপাতালের উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ককে নার্স সুপারভাইজার কর্তৃক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গত ১৬ এপ্রিল মারামারির ঘটনায় মাথায় ইনজুরি নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী সোনা মিয়াকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে কর্তব্যরত ডাক্তার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে না পাঠিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সিটিস্ক্যান করার জন্য বাইরের একটি ক্লিনিকে পাঠালে ওই ক্লিনিকেই তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে তেমন কোনো ওষুধ দিচ্ছে না। বাহিরের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে। আর হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা দিলে বেশিরভাগ পরীক্ষা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষেরা চিকিৎসার জন্য কোথায় যাব।’

হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ইনচার্জ হাফিজ বলেন, ‘জ¦ালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্সগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা যথারীতি অফিসে এসে বসে আছি।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, ‘জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যে বরাদ্দ ছিল তা শেষ হওয়ায় বর্তমানে তেলের বরাদ্দ নেই। এজন্য অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ আছে।’