শেষ পর্যন্ত ৪০ রানে অপরাজিত থাকা অলক কাপালি আক্ষেপ করছিলেন। সঙ্গে জুটি হিসেবে কাউকে পেলে প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ম্যাচটা নিয়ে আসা সম্ভব ছিল তার। তবে আবাহনীর পেসার তানজিম হাসান সাকিব ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানালেন স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচগুলোতে তাদের সমকক্ষ কোনো দলই নেই। সাকিবের কথা মাঠে প্রমাণিত। অগ্রণী ব্যাংক, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও আগের ম্যাচে মোহামেডান এবং গতকাল প্রাইম ব্যাংক সব ম্যাচেই প্রতিপক্ষ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত জিতেছে আবাহনীই। কাল ৫ উইকেটে ২৮৫ রান করে প্রাইম ব্যাংককে ৪৩ রানে হারিয়েছে জায়ান্টরা।
এই জয়েই শিরোপা প্রায় নিশ্চিত হতো আবাহনীর। তবে সাভারে শেখ জামাল ৮৫ রানে মোহামেডানকে হারিয়ে দেওয়ায় তা হয়নি। লিগে আর তিন রাউন্ড খেলা বাকি। মাঝের দুই রাউন্ডে শেখ জামাল হারলে আর আবাহনী জিতে গেলে শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে আকাশিরা। তেমন কিছু না হলে ১৩ মে মিরপুরে শেখ জামাল-আবাহনী ম্যাচ এবারের লিগের ফাইনাল হয়ে দাঁড়াবে। তবে ওই ম্যাচের আগেই শিরোপা নিশ্চিতের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাকিব বলেন, ‘আমরা এই লিগে বেশ কিছু ম্যাচ খুব রোমাঞ্চকর মুহূর্ত থেকে জিতেছি। এটা আমাদের দলের অভিজ্ঞতা থেকে। আমরা হয়তো দলটি তরুণ কিন্তু যারা আছে তারা সবাই এমন কঠিন মুহূর্ত থেকে ম্যাচ বের করায় পারদর্শী। এদিক থেকে আমি বাকি সব দলের চেয়ে আবাহনীকে এগিয়ে রাখব। এ জন্য আমরা শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। হয়তো পরের ম্যাচে এমন আরেকটি মুহূর্ত জিতে আমরা শিরোপাও নিশ্চিত করতে পারি।’
কাল ফতুল্লায় দুই পারফরমারে জিতেছে আবাহনী। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে আফিফ হোসেন ধ্রুবর প্রথম সেঞ্চুরিতে বড় স্কোর গড়ে তারা। পরে পাকিস্তানি খুশদিল শাহর লিস্ট এ ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে (৬/৪৯) প্রাইম ব্যাংককে থামিয়ে দেয় ২৪৩ রানে। আফিফের জন্য এই সেঞ্চুরি বড় স্বস্তির। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ফিরে আসার চেষ্টাটা ভালোই করছেন আফিফ। লিগে ধারাবাহিক রান না করলেও কিছু ভালো ইনিংস খেলেছেন। তার সেরাটা ছিল গতকাল। সবশেষ ২০২০ বিসিএলে আফিফের ব্যাটে সেঞ্চুরি ছিল। লম্বা বিরতির পর তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তিনি। আগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৮০ রান করেছিলেন এই বাঁহাতি। গতকাল মোহাম্মদ নাঈম আউট হওয়ার পর ক্রিজে গিয়ে ধীরে শুরু করেছিলেন আফিফ। উইকেটে সেট হওয়ার পর শেষ ৫ ওভারে রান তুলেছেন দ্রুত। শেষ পর্যন্ত ১০১ বলে ৫ ছক্কা ও ৬ চারে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলা দেখতে আসা নির্বাচক হাবিবুল বাশারের সামনে সেঞ্চুরি করে জানিয়ে রাখলেন জাতীয় দলে ফেরার বার্তাও। ৭৬ বলে ৪টি করে ছক্কা ও চারে ৬৭ রান করা মোসাদ্দেকের সঙ্গে ২২তম ওভারে জুটিবদ্ধ হয়ে দারুণ রান যোগ করেছেন দলের বোর্ডে। ২৩ ওভারে দুজনের রান ছিল ১৪০। ২৩০-এ থামে এই জুটি। মোসাদ্দেক আউটের সময় আফিফ ছিলেন ৮০ রানে। এরপর তার ৩১, খুশদিল শাহর ১২ ও জাকের আলির ১১ রানে বড় স্কোর গড়ে আবাহনী। শেষ ১০ ওভারে আবাহনী ১০২ রান তোলে।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে জাকির হাসানের ৫১ ও প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের ৫৭ রান বাদে টপঅর্ডারের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তবুও লেজের ব্যাটারদের কল্যাণে জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল প্রাইম। শেখ মাহেদী হাসানের ২৬ রানের পর অলক কাপালি ও পাকিস্তানি কাশিফ ভাট ৮ ওভারে ৫১ রানের জুটি গড়লে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়েছিল প্রাইম। কিন্তু তানভীর কাশিফকে বোল্ড করে প্রাইমের আশা শেষ করেন বাঁহাতি স্পিনার তানীভর ইসলাম।
সুপার লিগে টানা দুই জয়ে ২৪ পয়েন্টে শীর্ষস্থান সুদৃঢ় করেছে আবাহনী। ২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শেখ জামাল সাভারে বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ফজলে রাব্বির ৯৩ ও সোহানের ৭০ রানে ৪ উইকেটে ২৫৯ করে। জবাবে ৪৭ ওভারে ২৭৭ লক্ষ্য পাওয়া মোহামেডান ১৯১ রানে অলআউট হয়। মিরপুরে দিনের অন্য ম্যাচে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ চিরাগ জানির ৮১ রানে গাজী গ্রুপের দেওয়া ২৬৬ রান তাড়া করে জিতেছে ৪ উইকেটে।