একসময় গৃহস্থের কাজ শেষে বাড়িতে বসে থেকে অলস সময় পার করতেন পুতুল রানী। কিন্তু এখন আর তাকে অলস বসে থাকতে হয় না। গৃহস্থালির কাজ সেরে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরিতে সময় দেন। বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করে কয়েক বছরেই নিজের ভাগ্য বদলেছেন। এই সার বিক্রি করে বছরে আয় করছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। পুতুল রানী দিনাজপুরের পার্বতীপুরের চন্ডীপুর ইউনিয়নের বড়হরিপুর পোদ্দারপাড়া গ্রামের প্রভাষ রায়ের স্ত্রী। নিজের আয়ের টাকায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। নিয়েছেন বাড়ি-ভিটাসহ ২৪ শতক জমি।
জানা যায়, এলাকার কৃষকদের কাছে পুতুল রানী এখন পরিচিত নাম। তার তৈরি কেঁচো সার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাকে দেখে আশপাশের অনেকেই কেঁচো সার উৎপাদনে মনোযোগী হচ্ছেন। বর্তমানে তার গ্রামের প্রায় ১৫-২০ জন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে এই জৈব সার উৎপাদন করছেন।
২০১৮ সালে পুতুর রানী উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কেঁচো সার ও কুইক কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন।
কৃষি অফিসের পরামর্শে বড়ির আঙিনায় দুটি রিংয়ে ৩০টি কেঁচো দিয়ে সার তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে তার ৬০টি রিংয়ে কেঁচোর পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ।
পুতুল রানী বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে যাচ্ছি এই কেঁচো সার বিক্রি করে। প্রতি কেজি সার ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করা যায়। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, গ্রাম বিকাশ, পানের বহরসহ স্থানীয় কৃষকরাই এসব সার কিনে নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেঁচো সার তৈরিতে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মতো সময় লাগে। তবে কেঁচোর পরিমাণ বেশি হলে সময় কম লাগে। গোবরের মধ্যে কেঁচো ডিম দেয় এবং সেখান থেকেই কেঁচো জন্মে ৭ থেকে ৮টি। প্রতি মাসে ৬০টি রিং থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ কেজি সার হয়ে থাকে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা দরে বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পেয়ে থাকি। এ ছাড়া প্রতি কেজি কেঁচো ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি।’