মার্কসবাদ হলো পুঁজিবাদের বিকল্প একটি আধুনিক মতবাদ, যা শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারণা। বিশ্বায়নের নামে এককেন্দ্রিক বৈষম্যমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে বিপুল আয়োজন কার্ল মার্কস তার পূর্ব ধারণা বা ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সেই উনিশ শতকেই সেটি উল্লেখ করে গেছেন। কাজেই আজকের যুগে এসে তিনি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।
গতকাল শুক্রবার কার্ল মার্কসের ২০৫তম জন্মজয়ন্তী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
দুই পর্বের আলোচনার প্রথম পর্বে ‘বাংলায় মার্কস’ বিষয়ে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন মার্কসবাদী ঐতিহাসিক, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রবীণ নেতা ভানুদেব দত্ত। একই বিষয়ে বক্তব্য দেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
বিকেলে দ্বিতীয় পর্বে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে ‘মার্কস ভাবনা আজ ও আগামীকাল’ বিষয়ক মূল আলোচনা উত্থাপন করেন ভারতের মার্কসবাদী তাত্ত্বিক অধ্যাপক শোভনলাল দত্তগুপ্ত। অধ্যাপক শোভনলাল বলেন, যারা মার্কসের তত্ত্বের ঘোরতর বিরোধিতা করেন তারাও সমাজ বিকাশের ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে কার্ল মার্কসের গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারবেন না। মার্কস শুধুমাত্র একজন দার্শনিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন শোষিত সমাজ পরিবর্তনের একজন সক্রিয় সৈনিক। আজকের এ বৈশ্বিক সংকট ও মানব সভ্যতার বিপর্যয়ের সময়ে এসে মার্কস আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।
তিনি আরও বলেন, এক কথায় মার্কসকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। তার সমাজ বিকাশের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার পদ্ধতি অবলম্বন করে মার্কসবাদ ব্যাখ্যা করতে হবে। গোটা পৃথিবীর শোষিত মানুষের ইতিহাস, শোষণের কারণ তিনি আলোচনা করে গেছেন। ১৮৫৩ পরবর্তী তার লেখায় ভারতবর্ষের সমাজ ব্যবস্থা ও পুঁজিবাদের বিকাশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।
আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনরা বলেছেন, সংকটময় এ বিশ্বে একুশ শতকে এসে কার্ল মার্কস আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। দেশে দেশে কমিউনিস্ট পার্টিকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে মার্কসবাদের মূল বক্তব্য ধারণ করে শোষণমুক্ত বিশ্ব গড়ার লড়াইকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।