রাজধানীর ভাটারায় বিয়ের তিন দিনের মাথায় রোকসানা বেগম (৩০) নামে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা তার স্বামী ফয়সাল মিয়া দাবি করেছেন, কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন রোকসানা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে রোকসানার স্বামী ফয়সাল জানান, তার বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর গ্রামে। একই উপজেলার বড় সাপমারা গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে রোকসানা। দুই মেয়ের জননী তিনি। তবে দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতো। সবশেষ পাঁচ দিন আগে রোকসানা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং ভাটারা নতুন বাজার খন্দকার মোড় এলাকায় ফয়সালের বাসায় ওঠেন। পরদিন রোকসানা তার প্রথম স্বামীকে তালাক দেন। এরপরের দিন গুলশানে একটি কাজি অফিসে ফয়সালকে বিয়ে করেন।
ফয়সাল আরও দাবি করেন, তার মা-বাবা কিছুতেই এ বিয়ে মেনে নিচ্ছিলেন না। তারা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটি দেখে রোকসানাও মর্মাহত হন। তার জন্যই পরিবারে এই অশান্তি বলে নিজেকে দোষারোপ করছিলেন রোকসানা।
গতকাল সকালে দুজন ঘুম থেকে ওঠার পর বাথরুম ঢুকে হাত-মুখ ধোন রোকসানা। এর কিছুক্ষণ পর বমি করতে থাকেন। তখন জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান কীটনাশক পান করেছেন। তখন তার মাথায় পানি ঢালা হয় এবং অবস্থার অবনতি দেখে ফয়সাল নিজেই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।