সুইডেন ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ভিন্নমতাবলম্বী হাবিব ফারাজুল্লাহ চাবেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব ও বোমা হামলার দায়ে তার এ সাজা কার্যকর করলো দেশটি। শনিবার (০৬ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে খুজেস্তান প্রদেশে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন জানিয়েছে, শনিবার সকালে হরকাত আল-নিদাল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধান হাবিব ফারাজুল্লাহ চাবেরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
২০২০ সালে সুইডেন থেকে তুরস্ক আসার সময় ইরানের বাহিনী তাকে আটক করে এবং তেহরানে নিয়ে আসে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য তারা কখনও প্রকাশ করেনি।
ইরানে আহভাজের স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরব স্ট্রাগল মুভমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ২০২২ সালে তার বিচার শুরু হয়। একাধিক ‘বোমা হামলা ও সন্ত্রাসী অভিযানের’ অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
ইরানের আহভাজ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে দেশটির সরকারের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দক্ষিণ পশ্চিমের তেল সমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশকে নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে চায় আরব স্ট্রাগল মুভমেন্ট।
গত বছরের ডিসেম্বরে হাবিব ফারাজুল্লাহকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে অমানবিক উল্লেখ করে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সুইডেন। সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা হাবিব ফারাজুল্লাহর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে ইরানের উপরাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টবিয়াস বিলসট্রোম টুইটে লিখেছেন, এই মৃত্যুদণ্ড একটি অমানবিক এবং অসংশোধনযোগ্য শাস্তি ৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথভাবে সুইডেন যেকোনও পরিস্থিতিতে এই (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকরের নিন্দা জানায়।
ইরানের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে সুইডেনের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। ১৯৮৮ সালের রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে ২০২২ সালে সুইডেন ইরানের সাবেক এক কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে চীনের পরই ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ।