প্রতিনিয়ত পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে

নানাবিধ ক্যানসারের মধ্যে বর্তমানে পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। পিত্তথলির সমস্যা বলতে সাধারণত পাথরজনিত সমস্যাকে বোঝানো হয়। মূলত নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করে পিত্তথলির ক্যানসার। প্রথমেই এর কারণ এবং প্রি-ডিসপোজিং ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে জানা দরকার।

ঝুঁকিতে কারা

সাধারণ নারী রোগী, বৃদ্ধ এবং দীর্ঘসময় ধরে পিত্তথলির পাথর যারা বহন করে বেড়াচ্ছেন কিন্তু চিকিৎসা নিচ্ছেন না তারা পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকিতে আছেন। এক গবেষণায় দেখা, গেছে যাদের পাথরের আকৃতি বেশি অর্থাৎ ৩ সে.মি.-এর থেকে বৃহদাকার পাথর দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।

উপসর্গ

এই ধরনের রোগীদের প্রধান সমস্যা থাকে পেটের ওপরের দিকে ডান দিকে ব্যথা অনুভব হওয়া। কোনো কোনো পর্যায়ে ওজন কমা, ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া এবং রোগের একদম শেষ পর্যায়ে বড় চাকা নিয়েও অনেক সময় রোগীরা ডাক্তারের কাছে আসেন।

রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ে ডাক্তাররা সাধারণত রোগীর কিছু শারীরিক পরীক্ষা বা ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশনের পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্তের কিছু পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি রোগ শরীরে কতটুকু ছড়িয়েছে তা নির্ণয়ে অর্থাৎ রোগের স্টেজিং প্ল্যান করার জন্য সিটিস্ক্যান এবং টিউমার মার্কার পরীক্ষা করে থাকেন।

চিকিৎসা

প্রথমেই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শুরুতেই জেনে নেবেন রোগটি কোন পর্যায়ে আছে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে দ্রুতই পিত্তথলি অপসারণ করেন। যদি রোগটি জটিল অবস্থায় চলে যায় তাহলে পিত্তথলি অপসারণের পাশাপাশি যকৃতের কিছু অংশ, পিত্তনালি অপসারণসহ আরও কিছু অপারেশন করে থাকেন। যাকে ডাক্তারি ভাষায় কিউরেটিভ বা রেডিক্যাল সার্জারি বলে। কোনো কোনো রোগীর রোগের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে রেডিওথেরাপি অথবা কেমোথেরাপির সাহায্যও নিতে হয়।

রোগের প্রতিকারের জন্য সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের পর উপসর্গগুলো দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া। সময় নষ্ট না করে অতিদ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।