ফুটবলের পিঠটান

১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমস ফুটবলে প্রায় নিয়মিতই অংশ নিয়ে আসছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ১৯৭৮ জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সেরা সাফল্য দেখিয়ে উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডেও। জামাল ভূঁইয়ার গোলে গ্রুপ পর্বের কাতারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে লাল-সবুজের দল। কিন্তু এবারের এশিয়ান গেমস ফুটবলে নারী ফুটবল দল পাঠানো হলেও পুরুষ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের গতকালের সভায়।

সভা শেষে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন ও বিওএর কোষাধ্যক্ষ এ কে সরকার বলেছেন, ‘গেমসে ১৭টি খেলায় দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই। সেই সিদ্ধান্তই বহাল আছে। সঙ্গে বক্সিং ইভেন্ট যোগ হয়েছে। তবে ফুটবলে মেয়েদের পাঠানো হলেও ছেলেরা বাদ পড়েছে।’ ছেলেদের বাদ দেওয়ার কারণ কী, তা জানতে চাইলে এ কে সরকার বলেন, ‘ছেলেদের পারফরম্যান্স চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত। ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা ছিল সভায়, তাদেরও বলা হয়েছিল। তারাও ব্যাপারটা নিয়ে একটু নিশ্চুপ ছিল।’ ফুটবলে গতবার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এবার দলই পাঠানো হচ্ছে না। সিদ্ধান্তটা সঠিক হলো কি না, তা জানতে চাইলে এ কে সরকার বলেন, ‘বাফুফের প্রতিনিধিরা তো বিষয়টা নিয়ে ওভাবে কিছু বলেনি।’

বাফুফের দুই সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহি উপস্থিত ছিলেন সভায়। মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবদিক বিবেচনা করেই বিওএর সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হতে যাচ্ছে এই প্রথম। পুরুষ ফুটবলে অ-২৩ দলের সঙ্গে তিনজন সিনিয়র ফুটবলার অংশ নিতে পারেন। তবে নারী প্রতিযোগিতায় সিনিয়র জাতীয় দলই অংশ নেয়।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল ছাড়াও আর্চারি, অ্যাথলেটিক্স, ক্রিকেট ফেন্সিং, ফুটবল (মহিলা), বক্সিং, হকি, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, কাবাডি, কারাতে, ব্রিজ, শুটিং, তায়কোয়ান্দো, ভারোত্তোলন, দাবা, সাঁতার ডিসিপ্লিনগুলোতে অংশ নেবে। চীনের হাংজুতে গত বছর হওয়ার কথা ছিল এশিয়ান গেমস। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে গেমসটি পিছিয়ে এ বছর হচ্ছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত হবে গেমসের ১৯তম আসর।