সময়ের অন্যতন পেশা ফ্রিল্যান্সিং। নিজের সৃজনশীলতাকে পুঁজি করে নানারকম ফ্রিল্যান্সিং সাইট বা মার্কেটে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন অনেক বাংলাদেশি। তবে অসংখ্য মার্কেটপ্লেসের ভিড়ে অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সার আবার খেই হারাচ্ছেন কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করবেন, কোন মার্কেটপ্লেসটি তার জন্য ভালো হবে। সেরা ৫ ফ্রিল্যান্সিং সাইট নিয়ে লিখেছেন খালিদ আহমেদ রাজা আপওয়ার্ক আপওয়ার্ক হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস। এটি বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারভিত্তিক কোম্পানি এবং যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন শ্রেণির কাজে দূরবর্তী কর্মীদের ভাড়া করে করিয়ে নেওয়া। ২০০৩ সালে ওডেস্ক (রেড উড সিটি, সি এ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গ্রিসের ব্যবসায়ী অডিসিয়াস সাতালস এবং স্ত্রাতিস কারামানলাকিস।
আপওয়ার্কে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। গড়ে আপওয়ার্কে ৪ লাখের ওপর কাজ রয়েছে। সাইটটিতে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য হিসেবে বা প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য অর্থ এই দুভাবেই কাজ পাওয়া যায়। আপওয়ার্ক মূলত একটি কোম্পানি, যেখানে একজন চাকরিদাতা এবং একজন ফ্রিল্যান্সার একে অপরের সঙ্গে চুক্তি করে থাকেন। যারা ইন্টারনেটে কাজ করেন তাদের অনেকেরই কল্পনা থাকে আপওয়ার্কে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফ্রিল্যান্সিং আরম্ভ করার। আবার কেউ কেউ আছেন যারা আপওয়ার্কে কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। বাস্তবতা হচ্ছে, আপনি পছন্দ করেন বা না করেন, আপওয়ার্কে কাজের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। কারণ এর ব্যাপ্তি ও প্রভাব অনেক। পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানিগুলো যেমন মাইক্রোসফট, অটোম্যাটিক, এরাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপওয়ার্কের ক্লায়েন্ট।
ফাইভার
নতুন ফ্রিল্যান্সারদের বেশ ভালো ফাইভার। মার্কেটপ্লেসটির অ্যালগরিদম এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের তৈরি করা নানা রকম কাজ মাঝেমধ্যেই অনুসন্ধান ফলাফলের ওপরের দিকে দেখা যায়। ফলে বায়াররা সহজেই নতুন ফ্রিল্যান্সারদের তৈরি করা নানারকম গিগ দেখতে পারেন। কিওয়ার্ড তার সঙ্গে ভালোমতো গিগ বানাতে পারলে নিজ থেকেই কাজের অর্ডার আসতে থাকে ফাইভারে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠাতা মিকা কাফম্যান এবং শাই উইনার এটি তৈরি করেছিলেন। সাইটে পরিষেবাগুলো হলো লেখা, অনুবাদ, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা এবং প্রোগ্রামিং।
ফ্রিল্যান্সার ডট কম
মুক্ত পেশাজীবীদের জন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওয়েবসাইট হলো ফ্রিল্যান্সার ডট কম। ওয়েবসাইটটির কর্মীরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাজ অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই করতে পারেন। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এমন একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ঘরে বসেই বিদেশি বড় বড় কোম্পানিদের কাজ করা যায়। এই সাইটটি তাদের কর্মীদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ দিয়ে থাকে। ফ্রিল্যান্সার ডট কম তাদের কর্মীদের প্রতি মাসে কাজের ১০% করে আর্থিক মূল্য পরিশোধ করে। ওয়েবসাইটটি বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শীর্ষ তিন ধরনের কাজ করে। এর মধ্যে ৩৪% আইটি ও সফটওয়্যার, ৩১% ডিজাইন, মিডিয়া ও স্থাপত্য এবং ১৩% লেখা ও কন্টেন্ট তৈরি। নতুনদের জন্য পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয় সাইট এটি।
পিপল পার আওয়ার
পিপল পার আওয়ার যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। পিপল পার আওয়ার মার্কেটে একজন ফ্রিল্যান্সার ঘণ্টাকেন্দ্রিক চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যে কাজ করতে পারেন। কিংবা কোনো একটি প্রজেক্টের জন্য সুনির্দিষ্ট টাকার বিনিময়েও কাজ করতে পারবেন। ঘণ্টাভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের মতো সময় ট্র্যাকের মাধ্যমে এখানে সময় পরিমাপের প্রয়োজন নেই। এখানে আপনি আপনার নির্ধারিত কাজটি সমাপ্ত করার পর ক্লায়েন্টের কাছে আপনার কাজটি সম্পন্ন করার সময়ের পরিমাণ আপনি লিখে দিতে পারবেন। জনপ্রিয় এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনি প্রায় সব ক্যাটাগরির কাজই করতে পারবেন। যেমন ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, রাইটিং অ্যান্ড ট্রান্সলেশন, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, ভিডিও ফটো ওডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, বিজনেস সাপোর্ট এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মোবাইল ক্যাটাগরি।
গুরু ডট কম
পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে ১৯৯৮ সালে মুনলাইটার.কম নামে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ফ্রিল্যান্সিং সাইটটি বর্তমানে গুরু ডট কম নামে পরিচিত। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো এখানেও প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, রাইটিং সব ক্ষেত্রই রয়েছে। তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও বিষয়ক কাজ এ সাইটে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
গুরু ডট কম-এ মূলত আপওয়ার্কের মতো ঘণ্টাভিত্তিক এবং মূল্যভিত্তিক এই দু ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আর গুরু ডট কম-এ কোনো একটি কাজ ক্লায়েন্ট থেকে দলভিত্তিক কিংবা একজন হিসেবেও নিতে পারেন। মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা বড় প্রজেক্টগুলোতে অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে একইসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। গুরু ডট কম থেকে আপনার উপার্জিত অর্থ পেপাল, পেওনিয়ার ও ব্যাংক ট্র্যান্সফারসহ বঈযবপশ-এর মাধ্যমেও নিতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে সেফ পে পদ্ধতি। আপনার শেষ করা কোনো বড় প্রজেক্টের ক্রয়কারী কর্তৃক গৃহীত আপনার পারিশ্রমিকের ২ শতাংশ ‘লয়্যালটি ক্যাশ’ হিসেবে জমা থাকে সেফ পে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই জমাকৃত অর্থ পরবর্তী সময়ে আপনি আপনার যে কোনো দরকারি কাজে লাগাতে পারবেন।