চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতে চান। আবার ব্যবসার পাশাপাশি করতে চান একটা চাকরি। তারা জেনে নিন কিছু বিষয়। জানালেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান
শিক্ষাজীবন শেষ করেই শুরু হয়ে যায় কর্মজীবন। কর্মজীবনের সময় সীমিত। চাকরিতে অবসর গ্রহণের জন্য আছে বয়সসীমা। তাই সাধারণত একজন মানুষ ৫০ বছরের বেশি কর্মজীবন পান না। পছন্দসই পেশায় ভালো চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হলে কর্মজীবন হয়ে যায় আরও ছোট। ফলে কেউ যদি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসাও করতে চান তাহলে তাকে যেমন দক্ষ তেমনি কৌশলীও হতে হবে।
যারা এখন ব্যবসা করছেন তারা যদি পাশাপাশি চাকরিও করতে চান তাহলে ব্যক্তি স্বাধীনতায় সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। চাকরি মানেই শৃঙ্খল। প্রতিষ্ঠানের পলিসি অনুযায়ী আপনাকে চলতে হবে। সুতরাং ব্যক্তিস্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়ার জন্য তৈরি থাকবেন। যারা এখন চাকরি করছেন তারা যদি পাশাপাশি ব্যবসা করতে চান তাহলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চাপ সহ্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। সীমিত অর্থের সঙ্গে চাকরির সম্পর্ক আছে, ব্যবসার নেই। ব্যবসায় টাকা চক্রাকারে ঘোরাতে পারতে হবে। চক্র থেমে যাবে, মুনাফাও থেমে যাবে।
যে-চাকরিতে সময় ও স্থান নির্ধারিত, সে-চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা চালানো সহজ। যে-ব্যবসায় শারীরিক সময় বিনিয়োগ করতে হয় কম, সে-ব্যবসার পাশাপাশি চাকরি করা সহজ। আরও পরিষ্কার করার জন্য উদাহরণ দিচ্ছি। সরকারি কলেজের বাংলার অধ্যাপক যত সহজে ব্যবসা করতে পারবেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক তত সহজে পারবেন না। সুতরাং দুই কর্মকা- একসঙ্গে চালানোর জন্য হয়-ব্যবসার নয়-চাকরির ধরনটা অনুকূল হওয়া প্রয়োজন। প্রশ্ন জাগতে পারে আপনার সমস্ত মেধা আর সময় দিয়ে ব্যবসা বা চাকরি শুধু একটি কাজই করতেন তাহলে কি লাভ হতো? নাকি দুটো করেই বেশি লাভ করছেন? ভাবুন। সময় নিন। হিসাব কষুন। আপনার হাতে নষ্ট করার মতো সময় খুব বেশি নেই।
চাকরির পাশাপাশি অন্য কোনো প্রকার আয়ের উৎসের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ফলে আপনি কৌশল অবলম্বন করুন, যা আপনাকে বিধিবিধানেরর সীমানায় ত্রুটিমুক্ত রাখবে। আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে চাকরি না ব্যবসা করবেন উত্তর খুঁজে নিন। আপনি যা ভাবছেন সঠিক কি না সেটা যাচাইও করতে হবে।
পার্টনারশিপ ব্যবসায় চাকরি করা সহজ। পার্টটাইম চাকরিতে ব্যবসা করা সহজ। আপনি যদি চাকরি বা ব্যবসার যেকোনো একটিতে দক্ষ হন, তাহলে দুটো কাজই চালাতে পারবেন। যারা দুটো কাজ একসঙ্গে করতে চান, তাদের পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক দায়িত্ব, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বেড়াতে যাওয়া, শখ মেটানো এসব কাজের জন্য সময় বিনিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। একটি কার্যকরী অফিস চাই। বহু ব্যবসায় প্রথাগত অফিসের কোনো প্রয়োজনই নেই। একটা ভালো ল্যাপটপ আর মোবাইল হলেই কাজ চলে। অর্থাৎ ব্যবসার জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলো থাকলেই চলবে। সঙ্গে চাই নিরাপত্তা আর যন্ত্রপাতি, যা সময় বাঁচাবে। কাজকে করে তুলবে আরও সহজ, দ্রুত ও নিখুঁত। আপনি কাজ করতে গিয়ে পদে পদে যেন বাধার সম্মুখীন না হন। ব্যবসা শুরু করতে হলে একটি ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএন নম্বর থাকা দরকার। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী থাকতে হবে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ব্যাংক হিসাব।