গত বুধবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরুর এক সপ্তাহ পর এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি রাজ্য সরকারের। কিন্তু ইতিমধ্যে প্রাণ গেছে ৬০ জনের, পুড়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি, ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অনিশ্চিত দিন কাটাচ্ছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। ৬ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে পাশের মিজোরামে, যাদের প্রায় সবাই কুকি-চিন-মিজো জনগোষ্ঠীর। মূলত স্থানীয় তফসিলি উপজাতি এবং মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মৈতৈ সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বার্থগত বিরোধের জেরে শুরু হয় চরম সহিংসতা। সেনা ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও সহিংসতার সূত্রপাত যে কারণে তার কোনো মীমাংসা হয়নি। তাই ফের সহিংসতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ নাজুক পরিস্থিতির যেকোনো সময় অবনতি হতে পারে আশঙ্কায় রাজ্য থেকে নিজ নিজ রাজ্যের লোকদের সরিয়ে নিচ্ছে ভারতের অন্যান্য রাজ্য সরকার। বিশেষ ফ্লাইটে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে রাজ্য সরকারগুলো।
ভারতের যেসব রাজ্য মণিপুর থেকে তাদের ছাত্রছাত্রী বা লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, সিকিম, অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি বা মহারাষ্ট্র। ৩২ লাখ জনসংখ্যার রাজ্য মণিপুর। পড়াশোনা এবং পেশাগত কারণে অন্য রাজ্যের আরও অন্তত তিন লাখ মানুষের অবস্থান ছিল সেখানে। আকস্মিক সংঘাত শুরুর পর যান চলাচল, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে রাতারাতি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয় মণিপুর। চারদিকে গুলি আর বোমার শব্দ, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে হাজারো ঘরবাড়ি। সহিংস এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কেটেছে গত কয়েক দিন। চোখে-মুখে এখনো আতঙ্ক স্পষ্ট, মণিপুর থেকে উদ্ধার হওয়া অন্য রাজ্যের মানুষের। তারা জানান, মণিপুর এখনো পুরোপুরি শান্ত না। যেকোনো সময়, যেকোনো কিছু হতে পারে।
মণিপুর রাজ্য সরকার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও তাতে আশ্বস্ত নন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিশাসিত রাজ্যটির চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। হতাহতের আসল সংখ্যাও প্রকাশের দাবি মমতার। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজনীতি ভুলে মানবতাকে প্রাধান্য দিয়ে মণিপুরের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিকে মণিপুরে সহিংসতা শুরু হওয়ার প্রায় ছদিন পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশেষে ওই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গত সোমবার মুখ খোলেন।
ভারতের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ দাবি করেন, মণিপুরের সার্বিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। মৈতৈ জনগোষ্ঠীকে তফসিলি উপজাতি হিসেবে নথিভুক্ত করতে হাইকোর্টের যে আদেশকে ঘিরে এই বিরোধের সূত্রপাত, সে বিষয়েও সরকার তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন।