১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত টালমাটাল দেশটির রাজনীতি। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর দেশটির একাধিক প্রধানমন্ত্রীকে করা হয়েছে গ্রেপ্তার, করতে হয়েছে কারাবরণ। দেশটির ৭৫ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা যেন পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। যার সর্বশেষ নজির ইসলামাবাদের হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আকস্মিক গ্রেপ্তার।
ইমরানের আটকের পর দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ইতিহাস তুলে ধরে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন। প্রতিবেদনে শুরুতে আছেন পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী (সেপ্টেম্বর ১৯৫৬-অক্টোবর ১৯৫৭) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার বানোয়াট অভিযোগে ১৯৬২ সালের জানুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৩ সালের আগস্ট থেকে ১৯৭৭ সালের জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে রাজনৈতিক এক প্রতিপক্ষকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার হন তিনি। এমনকি ভুট্টোকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তার কন্যা বেনজির ভুট্টো ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের আগস্ট এবং ১৯৯৩ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তার বিরুদ্ধে তিন দফা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ১৯৯৯ সালে দুর্নীতির দায়ে তার ৫ বছরের সাজা হয়, যা পরে বাতিল করা হয়। ২০০৭ সালেও বেনজিরকে গৃহবন্দি করেছিল পাকিস্তানের সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের সরকার।
২০১৮ সালের জুলাইতে নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে ১০ বছরের সাজা দেয় দেশটির জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব)। সে বছরই আরেকটি মামলায় শরিফকে সাত বছরের সাজা দিয়ে আবারও কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। পরে চিকিৎসার অজুহাতে দেশ ছাড়েন তিনি। সর্বশেষ আল কাদির ট্রাস্ট মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল ৯ মে ইমরান খানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হলো।