দিনাজপুর সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন অস্কারপুরের অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন।
তিনি অভিযোগ করেন, আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুরে নওশনদীঘি পুকুরটি সরকারের কাছ থেকে নাগরপাড়া (সোনাকুড়ি) মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিজ নেয়। লিজ নেওয়ার পর থেকে জিয়া ও তার লোকজন পুকুরটি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। গত ১৯ এপ্রিল জিয়া বেশ কয়েকজন সঙ্গীসহ দিনাজপুর শহরের উপশহরে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিনের ছেলে আসাদুজ্জামান বাবুর ভাড়া বাসায় গিয়ে পুকুরটি তার নামে লিজ প্রদান করতে বলে। আসাদুজ্জামান অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্যাতন করে। আসাদুজ্জামানকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জিয়া। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাড়িতে রাখা নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ আসাদুজ্জামানকে জোরপূর্বক তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় জিয়া। পরে আসাদুজ্জামানকে মারধর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় এবং মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখনো জিয়াকে গ্রেপ্তার করেনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মওলা বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর থেকে জিয়াউর রহমান পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।’