‘মায়ের ডাক’ সদস্যদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

দেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বারিধারাস্থ আমেরিকান সেন্টারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় মার্কিন ডেপুটি রাষ্ট্রদূত হেলেন লাফাভে এবং ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়কারী নিখোঁজ সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে সানজিদা ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতকালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ স্বজনদের গুম হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের আমরা ফিরে পেতে চাই। কিন্তু দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করছে না উল্টো আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছে

মার্কিন রাষ্ট্রদূত কি বলেছেন জানতে চাইলে সানজিদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদেরকে জানিয়েছেন যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় সেখানেই আমরা তা বন্ধে কাজ করি। বাংলাদেশে গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতন ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিখোঁজ সুমনের নাখালপাড়ার বাসায় গিয়েছিলেন। সে সময় ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি, কারাদণ্ড, চাকরিচ্যুত সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের কান্নার' সদস্যরা ভিড় করেন সুমনের বাসার সামনে। তারা ভিড় জমাতে পারেন এমন খবরে চটজলদি সাজেদুলের বাসা থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তার নিরাপত্তা টিম। কিন্তু তিনি গাড়িতে ওঠার আগ মুহূর্তে হট্টগোলের মুখে পড়েন।

বিএনপির ঢাকা মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির (বর্তমানে ঢাকা উত্তরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাজেদুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছেন, সাজেদুলকে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।