অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক চেং লেই ২০০৩ সাল থেকে চীনে ইংরেজি ভাষার চ্যানেল সিসিটিভিতে কাজ করতে শুরু করেন। সিসিটিভির পরিচিত মুখ ছিলেন চেং লেই। কঠোর নিয়ন্ত্রণে লেখা ‘চীনের গল্প’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করতেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। সিএনবিসির চীনের সংবাদদাতা হিসেবে ৯ বছর কাজ করেন। এরপরে সিসিটিভির ইংরেজি নতুন নাম সিজিটিএন চ্যানেলে ২০১৩ সাল থেকে কাজ শুরু করেন। তার পরিচিতদের মতে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের একজন হিসেবে তিনি কাজের সীমানা বুঝে চলায় অভ্যস্ত ছিলেন। ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার সময় তিনি বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির প্রধানদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। কিন্তু সেসবে তিনি রাজনীতি এড়িয়ে চলতেন। কখনোই তাকে চীনের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়নি। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ২০২০ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ গায়েব হয়ে যান চেং। বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় তার।
পরে অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, চেং লেইকে আটক করেছে চীন। জানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট হঠাৎ চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে আটক করে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যায়। তবে তাকে আটকের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। অজ্ঞাত কারণে চেং লেইয়ের বন্দিত্বের এক হাজার দিন পেরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে রুদ্ধদ্বার আদালতে গত বছর মার্চে তার বিচারও হয়। এতে চেং লেইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। যদিও তাকে কী সাজা দেওয়া হয়েছে তাও স্পষ্ট নয়।
এ অবস্থায় চীনে অস্ট্রেলিয়ার এই সাংবাদিকের কারাবাসের হাজার দিন নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেখানে চেং লেইয়ের সঙ্গী নিক কোয়েল বলেন, ‘এক হাজার দিন আটক থাকা কম কষ্ট নয়। আমি চীনের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে এই অদ্ভুত পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করার আহ্বান জানাই।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠছে।