সোনাগাজীর ৩০% নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নলকূপগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপে আর্সেনিক নিয়ে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২২ হাজার ৫১টি নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ৬ হাজার ৫৮৪টি নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব নলকূপের পানি ব্যবহার না করতে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় জেন্ডার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় গত বছরের ডিসেম্বরে সোনাগাজীতে শুরু হয় আর্সেনিক পরীক্ষা কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে ৯টি ইউনিয়নে ২৭ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারীসহ মোট ৫৪ জন পরীক্ষক অংশগ্রহণ করেন। তারা চার মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নলকূপের পানি পরীক্ষা করেন। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আড়াই হাজার নলকূপের পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সোনাগাজী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০-৫৫ হাজার গভীর-অগভীর নলকূপ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৫১টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৮৪টি নলকূপে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি মিলেছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম জানান, সোনাগাজী উপজেলার ৩০ শতাংশ নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। আর্সেনিকমুক্ত নলকূপে সবুজ দাগ ও আর্সেনিকযুক্ত নলকূপগুলোতে লাল দাগ দেওয়া হয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি খাওয়া ব্যতীত ধোয়া-মোছাসহ অন্য সব কাজে ব্যবহার করা যাবে।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক উৎপল দাস বলেন, প্রতি লিটারে ১০ মাইক্রোগ্রামের বেশি পরিমাণ আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে রোগের উপসর্গ দেখা যায় না, দীর্ঘদিন পর শরীরে এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। আর্সেনিকে আক্রান্ত হলে চর্মরোগ থেকে শুরু করে মরণব্যাধি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। নীরব ঘাতক আর্সেনিকোসিস, যা আসে আর্সেনিক থেকে। ভূগর্ভ থেকে গভীর বা অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে আসে এই বিষ। প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম বা এর বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকলে তা খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়।

সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বলেন, সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সংগৃহীত আর্সেনিকের তথ্যের বিষয়ে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পানির জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে গভীর নলকূপ স্থাপন বাড়ানো দরকার।