দুই অর্ধে দু’দলের দুর্দান্ত দুই গোল। ভিনিসিউস জুনিয়রের ৩৬ মিনিটের গোল ৬৭ মিনিটে শোধ দিয়ে দেন কেভিন ডি ব্রুইনে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানসিটি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ১৭ মে ইতিহাদে দ্বিতীয় লেগে হবে ফয়সালা।
২০১৫-১৬ মৌসুমের প্রথম সেমিফাইনাল গোলশূন্য থাকার পর রিয়াল ঘরের মাঠে দ্বিতীয় পর্বে ১-০ গোলে জিতেছিল। গতবার নিজেদের মাঠে সিটি ৪-৩ গোলে প্রথম পর্ব জেতার পর রিয়াল বার্নাব্যুতে অতিরিক্ত সময়ের গোলে জিতে (৩-১) উঠে গিয়েছিল ফাইনালে। এবার কী হবে? জ্যাক গ্রিলিশ বলেছেন গতবারের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দল এবার আরও পোক্ত, ‘এবার আমাদের দলটি অনেকটা নতুন, ভিন্ন অনেক ফুটবলার আছে। অভিজ্ঞ ফুটবলার ও বিশ্বমানের তরুণ ফুটবলারদের নিখুঁত ভারসাম্য আছে আমাদের দলে। ইতিহাদে আমরা অপ্রতিরোধ্য। এখানেও আমরা জয়ের জন্যই এসেছিলাম। জিততে না পারলেও এরকম একটি জায়গায় পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোতেই ফুটে উঠেছে আমাদের মানসিকতা কতটা শক্ত।’
অন্যদিকে লুকা মদ্রিচ বললেন, ‘আমার মনে হয় না, কোনো দল মানসিকভাবে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগে যেতে পারছে। লড়াই উন্মুক্তই রয়ে গেছে। আমরা অবশ্য আগে থেকেই জানতাম, বার্নাব্যুতেই শেষ হচ্ছে না খেলা। কেউই এই ম্যাচে লড়াই শেষ করে দেওয়ার ঝুঁকিতে যাবে না। এই ম্যাচের আগে যেমন সম্ভাবনা ছিল ৫০-৫০, ম্যাচের পরও সেটিই থাকছে।’
প্রথমার্ধে সিটির প্রাধান্য, দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের: দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা এবং সেই ফেব্রুয়ারি থেকে অপরাজিত সিটি বার্নাব্যুতেও আক্রমণাত্মক শুরু করে। প্রথম ২০ মিনিটে ৭০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ছয়টি শট নেয় তারা, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অবশ্য প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো শটই নিতে পারেনি তারা। এরপর একটু একটু করে পাল্টা চাপ দেওয়া রিয়াল ৩৪ মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ শানায়। তবে ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস বেনজেমা বক্সে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টায় তার হাতে বল লাগে। এর দুই মিনিট পরই অসাধারণ এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস। আক্রমণটি শুরু করেছিলেন এদুয়ার্দো কামভিঙ্গা। মাঝখানে লুকা মদ্রিচের পা ঘুরে কামাভিঙ্গাই খুঁজে নেন ভিনিসিউসকে। প্রায় ২২ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ পায় সিটি। তবে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে ডি ব্রুইনের কোনাকুনি শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তিন মিনিট পর বক্সে ঢুকে হালান্ডের নেওয়া শট দারুণভাবে রুখে দেন ডিফেন্ডার ডাভিড আলাবা। পরের ১৫ মিনিটে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য করে রিয়াল। চাপ সামলে ৬৭তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে গোলে সমতা টানেন ডি ব্রুইনে। দূর থেকে নিচু জোরালো শটে বল জালে পাঠান বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। তবে এই গোলের বিল্ডআপে বল সাইড লাইনের বাইরে থেকে নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে প্রতিবাদ জানায় রিয়াল। রেফারির সঙ্গে এ নিয়ে তর্ক করায় কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে সংবাদ সম্মেলনেও একই কথা বলেন আনচেলত্তি, ‘দেখে মনে হয়েছে, বল বাইরে চলে গিয়েছিল। বিন স্পোর্টসের প্রযুক্তিতে দেখা গেছে যে, বল পরিষ্কার বাইরে ছিল। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার যে তিনি (পর্তুগিজ রেফারি) এটি দেখেননি। এটির আগে একটি কর্নারও হয়েছিল, যা দেননি রেফারি। তিনি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। আমাকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। আমি তো খেলছিলাম না! তখন তাকে বলেছি, ‘আমাকে না দেখিয়ে মাঠের ভেতরে এটার প্রয়োগ করুন।’ আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ ও বর্তমানে ফিফার চিফ অফ গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট আর্সেন ভেঙ্গারের মতে, ভিএআর হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল এখানে।