শ্রীলঙ্কান টেস্ট অধিনায়ক দিমুথ করুনারতে্ন এই প্রথম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন। শাইনপুকুরের হয়ে সংক্ষিপ্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিপিএল শেষে শিহাব উদ্দিনের সঙ্গে ডিপিএল, টেস্ট ক্রিকেট ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে নিজের মত জানালেন
আপনি তো এই প্রথম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন। শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কী পার্থক্য দেখলেন?
দিমুথ : আমি তো মাত্র দুটো ম্যাচ খেলেছি এজন্য খুব বেশি অভিজ্ঞতা নিতে পারিনি। আর আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের ঘরোয়া লিগে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলিনি। কারণ আপনি জানেন যে আমি টেস্ট ক্রিকেটে বেশি মনোযোগী। যেহেতু আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে আমার অনেকদিন সম্পর্ক নেই তাই এখানে খেলে খুব বেশি পার্থক্য বুঝতে পারিনি। তবে আমার মনে হচ্ছে এখানে প্রতিযোগিতাটা অবশ্যই ভালো। কারণ এখানে সব সিনিয়র ক্রিকেটাররা খেলে দেখলাম। আর সবাই বেশ গুরুত্ব দিয়ে খেলে।
তবুও যদি পয়েন্ট আউট করতে বলা হয় ডিপিএলে নির্দিষ্ট কোন ব্যাপারটা একটু আলাদা লেগেছে?
দিমুথ : একটা বিষয়, এখানে লিগটা খেলা হয় লম্বা সময় ধরে। একেক দল ১৩-১৫ ম্যাচ (১৬ সুপার লিগসহ) খেলে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে ওয়ানডে ফরম্যাটের ঘরোয়া লিগটা হয় মাত্র ৬ ম্যাচের ফাইনালসহ। তাই এখানের (বাংলাদেশের) লিগ একজন ক্রিকেটারের জন্য অবশ্যই ভালো অভিজ্ঞতার। এতগুলো ম্যাচ খেললে অবশ্যই নিজেকে তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়। যেহেতু এখানে অভিজ্ঞরাও খেলে তাই তরুণদের জন্য এতটা সময় ওদের সঙ্গে থেকে বেশ কিছু শেখার সুযোগও হয়। তো সবমিলিয়ে যতটুকু আমি জেনেছি ঢাকা লিগ সম্পর্কে এবং যা দেখলাম তাতে আমার কাছে এই লিগের প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনা খুব ভালো লেগেছে।
টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে যদি বলি আপনার তো টেস্টে লম্বা সময় ব্যাটিং করার সুনাম আছে। বাংলাদেশ ব্যাটারদের এদিকটায় দুর্বলতা আছে। এদিকে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?
দিমুথ: এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। কীভাবে আপনি ব্যাট করতে চান, কীভাবে আপনি টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে একজন ব্যাটার হিসেবে ভাবেন, আপনার মানসিকতা কতটুকু টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে ম্যাচ করে। বা আদৌ লঙ্গার ভার্সন আপনি খেলতে চান কি না, আমি বলছি ইচ্ছের কথা। ইচ্ছেশক্তিটা অনেক বড় বিষয়। এখানে লঙ্গার ভার্সনে খেলার স্কিলটাও যোগ করতে পারেন। তো এই সব কিছু মিলিয়ে একজন টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি হয়। যত বেশি টেস্ট ম্যাচ বা লঙ্গার ফরম্যাটে খেলবেন ততবেশি আপনার এই দিকগুলো শানিত হবে। ব্যাটারদের কথা যদি বলি আপনাকে ভাবতে হবে আপনি ইনিংস কীভাবে শুরু করবেন, ইনিংস বিল্ডআপ করার পর কীভাবে আপনি সেটাকে এগিয়ে নিতে চান। এসব আসলে ব্যক্তিগত পরিকল্পনার বিষয়। একজন টেস্ট ব্যাটার হিসেবে অবশ্যই আপনাকে সময় দিতে হবে নিজেকে তৈরির জন্য।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আপনি নিয়মিত খেলেন। আপনার পরামর্শ অনুসারে কোন ব্যাটাররা ভালো করছে?
দিমুথ: বাংলাদেশে এখন যদি বলি মুশফিকুর-লিটন টেস্ট মানসিকতার দিক থেকে খুব ভালো করছে। অন্তত আমাদের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজ থেকে আমি এটাই বলব। ওদর ফিটনেস, ধৈর্য, ইনিংস বিল্ডআপের মানসিকতা বা কখন ইনিংসটা ধরে খেলতে হবে, কখন রান করতে হবে মানে গিয়ার চেঞ্জ করা সবকিছু ওই সিরিজে ভালো ছিল। কিন্তু বাকিদের কথা বলতে হলে টেস্টের মেজাজ তৈরিতে ওরা এখনো একটু পিছিয়ে। আমি বিশ্বাস করি ওরা নিজেদের নিয়ে কাজ করছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি চারদিনের ম্যাচ খেললে অবশ্যই ওরাও ভবিষ্যতে মুশফিক-লিটনের মতো হতে পারবে।
সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কা ফাইনালে খেলার খুব কাছে ছিল। নিউজিল্যান্ডে সিরিজ জেতা সম্ভব ছিল আপনাদের জন্য। এটা না হওয়ায় আপনি কি হতাশ ছিলেন?
দিমুখ : সত্যি বলতে আমি হতাশ না। কারণ গত চক্রের চেয়ে আমরা এবার ভালো করেছি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত টেস্টে অনেক এগিয়ে এবং ওরা ঘরের মাঠে বেশি ভালো করে। ওদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা সহজ না। তবে আমি একটু হতাশ আমাদের শ্রীলঙ্কার (হোমে) ম্যাচগুলো নিয়ে। আমরা দুটো ম্যাচ হেরেছি একটা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আর একটি পাকিস্তানের সঙ্গে। ওই দুটো ম্যাচ জিতলে আমরা পয়েন্ট বা পারসেন্টেজে অনেক এগিয়ে থাকতাম। দুটো ম্যাচে ফল ভিন্ন হলে অন্যরকম হতো ব্যাপারটা। এদিক থেকে হতাশা কাজ করলেও ওভারঅল আমি খুশি। এই চক্রের ফল দেখে আমি অবশ্যই আশাবাদী যে পরেরবার আমরা আরও ভালো করতে পারব। হতে পারে আমরা পরেরবার ফাইনালেও খেলতে পারি।