জাহাঙ্গীরকে এবার আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

গাজীপুরের বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ইচ্ছা পুরণ করেনি আওয়ামী লীগ। গাজীপুর সিটির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর দলীয় মনেনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হন। প্রার্থী করেন তার মা জায়েদা খাতুনকেও। এরই মধ্যে দল থেকে মনেনয়ন পান গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান।

তবে আওয়ামী লীগ তাকে বার বার নির্বাচন থেকে সরে যেতে নির্দেশ করে। নির্দেশ অমান্য করে প্রার্থী জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিল হয়। তবে জাহাঙ্গীর আগ্রহ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে নির্দেশ করলে তিনি ও তার মা মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ভোট থেকে সরে দাঁড়াবেন। তার সেই আগ্রহ পূরণ হয়নি।

এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গাজীপুরের বরখাস্তকৃত জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কারের সুপারিশ করেছে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যেরা।

আজ রবিবার (১৪ মে) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সম্পাদকমণ্ডলীর সুপারিশ দলীয় সভাপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে জাহাঙ্গীরকে দলের সর্বস্তরের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করেছেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যেরা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন নেতারা। ওই সভায় আলোচনায় ছিল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিষয়ে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়টি সামনে আসে।

তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করার জন্য দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ক্ষমা চাওয়ায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এখন তিনি আবার দলীয় সিদ্ধান্ত আমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি তার মাকেও প্রার্থী করেছেন। নিজের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পরে মায়ের পক্ষে প্রচারণা করছেন তিনি। সেখানে দলের বিপক্ষে কথা বলেছেন। এ জন্য তাকে দল থেকে আজীবনের বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তারা।

বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন বাহাউদ্দীন নাছিম। বারবার সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেন তিনি। পরে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা এতে একমত হন। এরপরই সিদ্ধান্ত হয়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের সিদ্ধান্ত লিখিত আকারে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জানাবেন। জাহাঙ্গীর আলম যাতে দলের কোন কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হতে পারেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কার্যনির্বাহী বৈঠকে। এখনই এ বৈঠক না হওয়ায় দলীয় সভাপতির শেখ হাসিনার কাছে সম্পাদকমণ্ডলীর সুপারিশ পাঠানো হবে। বৈঠকের আগে জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পরে কার্যনির্বাহী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান। সেখানে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রাার্থী হন জাহাঙ্গীর আলম। একই সঙ্গে মা জাহেদা খাতুনকেও প্রার্থী করেন তিনি। ঋণ খেলাপির জামিনদার হওয়ায় জাহাঙ্গীরের মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে আপিলেও মনোনয়ন ফিরে পাননি।

এদিকে বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাদের সিটি করপোরেশনের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।