টানা নয় বছর সেনা সমর্থিত সরকারের বদলে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে ভোট দিল থাইল্যান্ডের জনগণ। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে প্রায় ৫ কোটি ভোটার দেশটির ৯৫ হাজার কেন্দ্রে ভোট দেওয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় বিকেলে। এদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বুথফেরত জরিপ বলছে, নির্বাচনে জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে বিরোধীরা। সেনা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা এবং পিটা লিমজারোয়েনরাট প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছেন।
আলজাজিরা জানিয়েছে, চলছে ভোট গণনা, এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ ভোট গণনায় এগিয়ে আছেন থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতোংতার্নের নেতৃত্বাধীন পুয়ে থাই পার্টি। ভোটের আগের জনমত জরিপেও তিনিই এগিয়ে ছিলেন। সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির পিটা। জরিপের ফলাফলে সন্তোষ জানিয়ে পিটা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ভীষণ আনন্দিত, ভোটের ভিত্তিতে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে পুয়ে থাই পার্টির সঙ্গে মিলে জোট সরকার গঠন করব।’
এদিকে ভোটের আগের জনমত জরিপেও পিছিয়ে ছিলেন রাজপরিবার ও সেনাসমর্থিত প্রায়ুথ চান-ওচা। ২০১৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতার পর এক সেনা অভ্যুত্থানে থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালেও নির্বাচন হয়েছিল, কিন্তু সামরিক কৌশলে কাউকে সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি। সেবারের ভোটে তরুণদের সমর্থন নিয়ে ফিউচার পার্টি বেশ ভালো ফল করেছিল, কিন্তু ২০২০ সালে আদালতের এক বিতর্কিত রায়ে দলটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনা থাইল্যান্ডজুড়ে বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দেয়; ৬ মাস ধরে চলা ওই বিক্ষোভে সামরিক বাহিনী ও রাজতন্ত্রের সংস্কার চাওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছিল, এবারের নির্বাচনে ৭০টির মতো দল অংশগ্রহণ করলেও এদের কেউই নিম্নকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে মনে হয় না। আর যদি পায়ও, কিংবা জোটবদ্ধভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণও করতে পারে তবু দেশটির গণতন্ত্রে ফেরাটা কঠিন হবে। কারণ ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর শাসনামলে হওয়া সংবিধানে নির্বাচন বহির্ভূত অনেক কর্র্তৃপক্ষ চাইলে জয়ী দল বা জোটের ক্ষমতায় আরোহণ আটকে দিতে পারে। ওই সংবিধানে ২৫০ সদস্যের একটি সিনেট বানানো হয়েছে, যার সদস্যরা নতুন প্রধানমন্ত্রী বা সরকার বেছে নিতে ভোট দিতে পারবে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের এখনকার সদস্যরা সামরিকপন্থি, তাদের সবসময়ই সেনা সমর্থিত সরকারের পক্ষে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, কোনো দল বা জোট যদি সিনেটের প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে তাদের ৫০০ আসনের মধ্যে ৩৭৬টিতে জিততে হবে, যাকে একপ্রকার ‘অসম্ভব’ বলছে বিবিসি। এখন দেখা যাক এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন কি না পেতোংতার্ন, পিটা এবং বাকি গণতন্ত্রপন্থিরা।