প্রাকৃতিক জলাধার, পুকুর, খাল, বিল, দীঘি, ঝরনা বা সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা চিহ্নিত বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে গণ্য জলাশয় ভরাট কিংবা বিঘœ সৃষ্টির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জোতপাড়া কোল (জলাধার) এপার-ওপার বরাবর মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জেলেরা প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসনে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা, যেকোনো মুহূর্তে প্রাণহানির সম্ভাবনা দেওয়া দিয়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ১০০ একর জমিতে পদ্মা নদীর শাখা কোল (জলাধার) প্রাকৃতিক মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে প্রতি বছর নির্ধারিত রাজস্ব আদায় সাপেক্ষে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়। এই ইজারাপ্রাপ্তি বা দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় প্রভাবশালী পক্ষগণের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্বে মাঝেমধ্যেই দেখা দেয় উত্তেজনা, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ওই কোলে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে। যেকোনো মূল্যে জলাশয়টি রক্ষা করে এখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবি স্থানীয়দের।
জেলেদের নেতা সুলতান আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর কোলের জলাশয়ের জায়গা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদদ ও সাহায্য নিয়ে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করে অবৈধ দখল করছে। এতে কোলের জল প্লাবনের জায়গা দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই প্রাকৃতিক মাছের অভয়াশ্রমখ্যাত জগন্নাথপুর কোলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। সেজন্য ইতিমধ্যে জেলেদের পক্ষ থেকে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনে লিখিত দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আগেই দখলবাজরা দ্রুততার সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ করে যাচ্ছে।
জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল বাকী বাদশা বলেন, এই কোলের অপর পাড়ে আমার ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার ভোটার বসবাস করেন, তাদের হাটবাজার, বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা নিতে হলে পার হতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক দিন ধরেই এখানে একটা সেতু নির্মাণের দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। সে লক্ষ্যেই এই বাঁধ দিয়ে একটা ফ্রেমে আনা হচ্ছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, ‘প্রাকৃতিক জলাধারের প্রকৃতি বা কোনোরূপ ধরন বা শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন বানু বলেন, ওই কোলের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি অন্যায়।