১৯৫৪ সালের ১৭ মে মৃত্যুবরণ করেন নৃত্যশিল্পী ও লেখক বুলবুল চৌধুরী। তার জন্ম ১৯১৯ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের চুনতি গ্রামে। তার প্রকৃত নাম রশীদ আহমদ চৌধুরী। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আজমউল্লাহ। পাঁচ বছর বয়সে গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি-ফারসি শেখার মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ১৯২৪ সালে তিনি হাওড়া প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর ১৯৪৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। শৈশব থেকেই নাচ, গান, ছবি আঁকা এবং গল্প-কবিতা লেখার প্রতি বুলবুলের প্রবল আগ্রহ জাগে। ১৯৩৪ সালে মানিকগঞ্জ হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত এক চিত্রপ্রদর্শনীতে তার আঁকা ছবি প্রথম পুরস্কার লাভ করে। তবে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই মুখ্যত তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় প্রেসিডেন্সি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে ওরিয়েন্টাল ফাইন আর্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিষয়বস্তুর নতুনত্ব ও কল্পনাশক্তির গভীরতায় সমৃদ্ধ তার নৃত্যনাট্যগুলো দেশে-বিদেশে সর্বত্র দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। ১৯৪১ সালের ৩১ মার্চ তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘কলকাতা কৃষ্টি কেন্দ্র’। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রামে আসেন এবং কয়েক জায়গায় চাকরি করেন। দেশ বিভাগের পর বুলবুল তার শিল্পীজীবনে ফিরে যান। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭০টি নৃত্যনাট্য রচনা এবং সফলভাবে পরিবেশন করেন। ১৯৪২ সালে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে ‘প্রাচী’ শিরোনামে একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৯৫৫ সালের ১৭ মে ঢাকায় তার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত হয় বুলবুল ললিতকলা একাডেমি।