মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সহায়তায় আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীকে হটানোয় ভূমিকা রাখেন সৌদি কোটিপতির সন্তান ওসামা বিন লাদেন। একটা সময় পর্যন্ত সৌদি রাজপরিবারেরও যথেষ্ট সমর্থন পান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অনুগত লাদেন এক যুগ আগে তাদের হাতেই প্রাণ হারান। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
মোস্ট ওয়ান্টেড
অ্যাবোটাবাদ। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি শহর। ১৮৫৩ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের প্রশাসক ও সেনা কর্মকর্তা মেজর জেমস অ্যাবোটের নামে শহরটির নামকরণ করা হয়েছিল। এক যুগ আগে অ্যাবোটাবাদের নাম বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়। কারণ ওই শহরেই সে সময় হত্যা করা হয়েছিল সন্ত্রাসী ওসামা বিন লাদেনকে। মৃত্যুর আগে বেশ কয়েক বছর ধরে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে লাদেনকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার নামে অভিযান পরিচালনা করে। ৪০ মিনিট ধরে চলা ওই অভিযানে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড ওসামা বিন লাদেন প্রাণ হারান।
১৯৫৭ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন লাদেন। তার বাবা ধনকুবের মোহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন লাদেন ছিলেন একটি নির্মাণ কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। লাদেনের বাবার সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র আর লাদেনের দা-কুমড়া সম্পর্কের কথা সবাই জানে। কিন্তু তারা কি বরাবরই পরস্পরের শত্রু ছিলেন? একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই দুজনের কর্মকাণ্ড গোটা ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টে দেয় অথচ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে তারা একসঙ্গে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করে। তাহলে তাদের সম্পর্কে চিড় ধরল কেন? কোন ঘটনায়? কেন লাদেন মার্কিনিদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিয়েছিলেন? কীভাবেই বা তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তিতে পরিণত হন?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সখ্য
১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মির আফগানিস্তান আগ্রাসনের পরপরই পাকিস্তানে যান রোগা, লম্বা ও শান্ত স্বভাবের লাদেন। সে সময় তার বয়স ছিল ২২। মার্কিন সাংবাদিক পিটার বারগেন তার দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব ওসামা বিন লাদেন বইয়ে বলেন, ‘লাদেনের আফগানিস্তানে যাওয়ার উদ্দেশ্য আফগানিস্তান থেকে বিধর্মীদের তাড়ানো। ধনকুবের বাবার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তিনি আফগানিস্তানের ইসলামি দল জামিয়াত-ই-ইসলামীর প্রতিনিধিদের দিতেন। ওই দল সে সময় সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করছিল।’ কয়েক বছর পর সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে লাদেনের সঙ্গে পরিচয় হয় জর্ডানিয়ান-ফিলিস্তিনি পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইউসুফ আজমের। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আজমকে শিক্ষক এবং পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতেন লাদেন। আজম ১৯৮৪ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারা শহরে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সংস্থার কাজ ছিল পবিত্র ধর্মযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তানে যাওয়া তরুণ আরব স্বেচ্ছসেবকদের কর্মকাণ্ড সমন্বয় করা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সংস্থা দ্য সেন্টার অব পাবলিক ইন্টেগ্রিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশোয়ারে আজম প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটিকে অর্থ সহায়তা দিতেন লাদেন, সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থা, সৌদি রেড ক্রিসেন্ট ও সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক এনজিও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ। এ ছাড়া সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও সৌদি রাজপুত্ররাও ওই সংস্থায় নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিক্ষক আজমের সংস্থাকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আফগানিস্তানের মুজাহিদিন যোদ্ধাদের কারিগরি সহায়তা দিতেন লাদেন। সড়ক ও ঘাঁটি নির্মাণের জন্য লাদেন তার বাবার নির্মাণ কোম্পানিতে কর্মরত প্রকৌশলী ও ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম আফগানিস্তানে পাঠাতেন। শুধু তাই নয়, ১৯৮৬ সালে আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে খোস্ত টানেল কমপ্লেক্স নির্মাণেও সহায়তা করেছিলেন লাদেন। পাকিস্তান সীমান্তের কাছে খোস্ত প্রদেশে ভূগর্ভস্থ ওই কমপ্লেক্স যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। কমপ্লেক্সটিতে ছিল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অস্ত্র মজুদের গুদাম ও মুজাহিদিনদের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্র। সিআইএ সে সময় আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওসামা বিন লাদেন ও সিআইএর মধ্যে যে সুসম্পর্ক ছিল, তার একমাত্র প্রমাণ খোস্ত টানেল কমপ্লেক্স নয়। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলাকালে সিআইএ কেবল লাদেনকে অর্থ সহায়তা দেয়নি, একই সঙ্গে তারা তাকে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণও দেয়। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা রবিন কুকও বিবিসির প্রতিবেদনকে সমর্থন করেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার এক কলামে লেখেন, ‘পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থার বড় ধরনের ভুল হিসাবের ফলাফল হচ্ছে লাদেন। গোটা আশির দশকজুড়ে সিআইএ লাদেনকে অস্ত্র সহায়তা দেয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানে রুশদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে লাদেনকে অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছিল সৌদি আরব। আল-কায়েদা শুরুতে ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করে, যেখানে হাজার হাজার মুজাহিদিন সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করা হতো। ওই মুজাহিদিনদের সোভিয়েত ইউনিয়নের রেড আর্মিকে হারাতে সিআইএর সহায়তায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অবশ্য এসব অভিযোগ সবাই সঠিক মনে করে না। মার্কিন সাংবাদিক পিটার বারগেনের মতে, ওসামা বিন লাদেন বা মুজাহিদিন যোদ্ধাদের সঙ্গে সিআইএর সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহায়তা তাদের মাধ্যমে নয়, বরং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) মাধ্যমে আফগানিস্তানে যেত।’
সম্পর্কে চিড়
আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী হটানোয় লাদেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তাকে দেশটির আলোচিত নেতায় পরিণত করে। এক দশক ধরে চলমান সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে মুজাহিদিনরা জয়লাভ করলেও যুদ্ধ শেষে তাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি দেখে লাদেন একপর্যায়ে আফগানিস্তান ছেড়ে সৌদি আরবে ফিরে যান। সেখানে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এরপর প্রায় এক বছর লাদেনের নাম শোনা যায়নি। ১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাক কুয়েতে হামলা করলে আবার লাইমলাইটে আসেন লাদেন। দ্য সেন্টার অব পাবলিক ইন্টেগ্রিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাদেন ওই সময় সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের দিয়ে একটি বাহিনী গঠন করার জন্য সৌদি রাজপরিবারকে অনুরোধ করেন। ওই বাহিনী কুয়েতে গিয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে লড়বে, এমনটাই চেয়েছিলেন তিনি। সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ও প্রধানমন্ত্রী ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ লাদেনের অনুরোধ না রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। সৌদি বাদশাহর ওই পদক্ষেপ লাদেনের জন্য বিশাল ধাক্কা ছিল। ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন সেনা যখন কুয়েতে নামে, তখন তিনি প্রকাশ্যে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে লাদেন ওই সময় আমেরিকানসহ বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করতে সৌদি ওলেমাদের প্রতি আহ্বান জানান।
নাগরিকত্ব বাতিল
সৌদি আরবের শাসকগোষ্ঠীর ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার একপর্যায়ে লাদেন তার অনুসারীদের নিয়ে সুদানে যান। দেশটিতে সে সময় ইসলামি বিপ্লব চলছিল। ওই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন ক্যারিশম্যাটিক নেতা হাসান তুরাবি। তাকে ১৯৮৯ সালে সুদানে অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওমর আল-বশির ক্ষমতায় এসেছিলেন। সুদানে থাকার সময় লাদেন সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা করা অব্যাহত রাখেন। একই সঙ্গে তিনি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করেন। সুদানে অবস্থানের সময় লাদেন আফ্রিকার আরেক দেশ সোমালিয়ায় তার কয়েকজন অনুসারীকে পাঠান। সোমালিয়ায় সে সময় মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিল স্থানীয়রা। তাদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতেই অনুসারীদের সোমালিয়ায় পাঠিয়েছিলেন লাদেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে সোমালিয়ায় যোদ্ধাদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ সেনা নিহত হয়। ওই যোদ্ধারা আল-কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন বলে ধারণা করা হয়। ওই ঘটনা মার্কিন প্রশাসনকে যারপরনাই ক্ষুব্ধ করে। তারা আগে থেকেই লাদেনের ওপর নজর রাখছিল। ১৯৯৩ সালের শুরুতে নিউ ইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনার পেছনে লাদেনের হাত ছিল বলে সন্দেহ তাদের। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৪ সালে সৌদি আরব তার নাগরিকত্ব বাতিল করে এবং এর দুই বছর পর সুদান সরকার লাদেনকে দেশ ছাড়ার আদেশ দেন।
সৌদি আরবের নাগরিকত্ব হারিয়ে এবং সুদান থেকে বিতাড়িত হয়ে ১৯৯৬ সালে লাদেন আফগানিস্তানে যান। সেখানে তালেবান তাকে ঠাঁই দেয়। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লাদেন মার্কিন সাংবাদিক বারগেনকে বলেছিলেন, ‘মার্কিন প্রশাসন অপরাধী ও অত্যাচারী। উদ্ধত ও দ্বিচারী এই প্রশাসন একজনকে সহজে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে দেয় যদি তিনি তাদের অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশ দখল করে, আমাদের সম্পদ লুট করে, তাদের এজেন্টদের দিয়ে আমাদের শাসন করে।’ ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ সেনা হত্যার দায় ওই সাক্ষাৎকারে নিয়েছিলেন লাদেন।
পরিণতি
নব্বই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন লাদেন। তার নাম বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ১৯৯৮ সালে। ওই বছর কেনিয়া ও তানজানিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলায় ২২০ হন নিহত হন। ওই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র আর লাদেনের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ধরতে সর্বশক্তি দিয়ে নেমে পড়ে, অন্যদিকে লাদেন আজ এখানে তো কাল ওখানেÑ এভাবে পালিয়ে বেড়ান, ধরা দেন না। তাদের এই খেলা চলে ২০১১ সাল পর্যন্ত। ওই সময়ের ভেতর বিশ্বে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আল-কায়দার হামলায় প্রাণ হারান প্রায় তিন হাজার মানুষ। আহত হন ৬ থেকে ২৫ হাজার মানুষ। এরপর শুরু হয় আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন।
২০১১ সালের ২ মে স্থানীয় সময় রাত ১টায় পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে লাদেন যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তাতে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। অভিযানে ৫৪ বছর বয়সী লাদেন ছাড়াও প্রাণ হারান চার ব্যক্তি। এদের মধ্যে একজন ছিলেন লাদেনের ছেলে। ৪০ মিনিটের অভিযান শেষে লাদেনের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে আফগানিস্তানে শনাক্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। মরদেহ লাদেনের নিশ্চিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আরব সাগরের উত্তরে সেটি সমাধিস্থ করা হয়। লাদেনকে কেন মাটিকে কবর দেওয়া হয়নি, এ প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, শীর্ষ ওই সন্ত্রাসীকে কবর দেওয়া হলে সে জায়গায় মাজার গড়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। এ ছাড়া লাদেনের জন্মস্থান সৌদি আরব তার মরদেহ নিতে রাজি ছিল না। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে পাকিস্তানি সাবেক হাইকমিশনার আকবর আহমেদ বলেন, ‘সৌদিরা ওয়াহাবিজম নামে ইসলামের যে ধারার চর্চা করেন, তা আলোচিত ব্যক্তিদের জন্য মাজার নির্মাণ সমর্থন করে না। এ ছাড়া লাদেন পরবর্তী সময়ে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক ছিলেন। এ কারণে তারা তার মরদেহ গ্রহণ করবে না, এটাই স্বাভাবিক।’