থাইরয়েড প্রজাপতির মতো দেখতে ছোট আকৃতির একটি গ্রন্থি, যা আমাদের গলার সামনের দিকে থাকে। এই থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নামক হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোন রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ হলে তাকে হাইপারথাইরয়ডিজম এবং কম নিঃসরণ হলে হাইপোথাইরয়ডিজম বলে। যেসব মহিলা হাইপারথাইরয়ডিজম বা হাইপোথাইরয়ডিজম রোগে আক্রান্ত হন এবং সঠিক চিকিৎসা অগ্রাহ্য তাদের কনসিভ করার ক্ষেত্রে এবং প্রেগন্যান্সিতে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।
থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত হরমোনের মাত্রায় গর্ভাবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
থাইরয়েডের কিছু লক্ষণ গর্ভাবস্থায় উপসর্গের মতোই, তাই অনেক সময় মহিলারা বুঝতেই পারেন না যে, তাদের থাইরয়েডের মাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
গর্ভাবস্থায় প্রথম ত্রৈমাসিক থাইরয়েড হরমোন শিশুর মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ্য প্লাসেন্টার মাধ্যমে প্রাপ্ত হরমোনের ওপর নির্ভর করে। গর্ভাবস্থার ১২তম সপ্তাহের মধ্যে, ভ্রƒণের নিজস্ব থাইরয়েড গ্রন্থি তার নিজস্ব থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে শুরু করে।
হাইপোথাইরয়ডিজমের উপসর্গ
হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া।
রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া। অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা।
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া। খাবারে অরুচি এবং খিটখিটে মেজাজ থাকা শীতের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়া পায়ে পানি জমা পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া।
ভ্রƒণের ক্ষতি করে : প্রসবের পরে শিশুর বিকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে। যাদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। অল্প উপসর্গের ক্ষেত্রেও যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে ভ্রƒণের মস্তিষ্কের বিকাশে এটি প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসা : হাইপোথাইরয়েড লেভোথাইরক্সিন নামক কৃত্রিম হরমোন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। লেভোথাইরক্সিন থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত ঞ৪ হরমোনের অনুরূপ। গর্ভাবস্থায় হাইপোথাইরয়েড ধরা পড়লে, লেডোথাইরক্সিনের একটি ডোজ দেওয়া হয় এবং গর্ভাবস্থায় প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে একটি পরীক্ষা করে দেখা হয়।
প্রসবপূর্ব ভিটামিন, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম শরীরের থাইরয়েড শোষণকে বাধা দিতে পারে, ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার জন্য গ্রহণ করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় সন্তানের ওপর প্রভাব
কনসিভ করতে সমস্যা হয়। আকস্মিক গর্ভপাতের আশঙ্কা। গর্ভাবস্থায় শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত এবং শিশু কম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জন্মাতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব বা মৃত সন্তান জন্ম। প্রি-একলামসিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাচ্চা গর্ভে ঠিকভাবে বাড়ে না।