ঢাকা মহানগরের বইপড়া কর্মসূচির বিজয়ীরা পেল পুরস্কার

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় একাদশ শ্রেণির বইপড়া কর্মসূচির বিজয়ী পাঠকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। এ অনুষ্ঠান থেকে ঢাকা মহানগরের সেরা ১৩ কলেজ এবং কেন্দ্রভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচি মিলে ১০৬ জনকে স্বাগত, ৮৯ জনকে শুভেচ্ছা, ৪৬ জনকে অভিনন্দন ও ২৫ জনকে সেরাপাঠকসহ মোট ২৬৬ ছাত্রছাত্রীকে তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পুরস্কৃত করা হয়।

শুক্রবার সকালে এই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরোয়ার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ও সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরোয়ার পুরস্কার বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বই তোমাকে মানুষ চিনতে, সমাজ চিনতে সহায়তা করবে। তোমাদের চিন্তা উন্নত হলেই আগামীদিনের বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে।

তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নিজ সন্তানকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়তে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মানিত ট্রাস্ট্রি ও সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া বক্তব্যের শুরুতে পুরস্কার বিজয়ী ছাত্রছাত্রী এবং উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি পুরস্কার বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যে সুযোগ পাইনি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তোমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগ তোমরা কাজে লাগাও, বেশি বেশি করে বই পড়ো। তোমাদের মাধ্যমেই আগামী বাংলাদেশ আলোকিত হবে ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বক্তব্যের শুরুতেই পুরস্কার বিজয়ী ছাত্রছাত্রী এবং উপস্থিতদের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি পুরস্কার বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের জ্ঞান পিপাসা বাড়াতে হবে এবং এই পিপাসা মেটানোর চেষ্টা করতে হবে। আর এই পিপাসা মেটানোর মাধ্যম হলো বই। পৃথিবীতে যা কিছু বড়, শ্রেষ্ঠ তার সবই পাবে বইয়ের মধ্যে। নিজেদের জ্ঞানকে বৃদ্ধি করার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একাদশ শ্রেণির বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলা সাহিত্য ও পৃথিবীর কিশোর সাহিত্যের সেরা ১২টি বই পড়ার সুযোগ পায়। একটি ছোট্ট ও সরস পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের বইপাঠ মূল্যায়ন করে পঠিত বইয়ের ওপর ভিত্তি করে ৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। মূল্যায়ন পর্বে যারা ৬টি বই পড়েছে বলে প্রতীয়মান হবে তারা স্বাগত পুরস্কার, যারা ৮টি বই পড়েছে তারা শুভেচ্ছা পুরস্কার, যারা ১০টি বই পড়েছে তারা অভিনন্দন পুরস্কার, আর যারা ১২টি বই পড়েছে তারা সেরা পাঠক পুরস্কার পায়।