ছোট হোক আর বড়, প্রতিটি গোনাহই খেয়ানত। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কোরো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতের খেয়ানত কোরো না।’ -সুরা আনফাল : ২৭
বর্ণিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, আয়াতের প্রেক্ষাপট যাই হোক, ‘খেয়ানত’ এখানে ব্যাপকার্থে। ছোট-বড়, সংক্রামক ও অসংক্রামক, সব গোনাহই এখানে শামিল। -তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৪১
কোরআন মাজিদে কুদৃষ্টিকে চোখের খেয়ানত বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ জানেন চোখের অসাধুতা এবং বুকের ভেতরের গুপ্ত বিষয়।’ -সুরা মুমিন : ১৯
এখানে চোখের খেয়ানতের কথা বলা হয়েছে। আসলে কেবল চোখ নয়, মহান আল্লাহর দেওয়া প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই আমানত। কোনো অঙ্গ আল্লাহর নাফরমানিতে ব্যবহার করা- ওই আমানতের খেয়ানত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা মানুষের যে অঙ্গ সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন তা হলো- গুপ্তাঙ্গ। তা সৃষ্টির পর বনি আদমকে মহান আল্লাহ বলেছেন, এটি তোমার কাছে আমানত রাখলাম; ন্যায়পথ ছাড়া তুমি তা ব্যবহার করবে না। যদি তুমি এ আমানতের হেফাজত করো তাহলে আমি তোমার হেফাজতের জামিন হয়ে যাব। সুতরাং গুপ্তাঙ্গ আমানত। কান, চোখ, জিহ্বা, পেট, হাত, পা সবই আমানত। যার আমানতদারি নেই তার ইমান নেই।’ -তাফসিরে কুরতুবি : ১৪/২৫৪
সমাজের অনেকেই আছেন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে বাহাদুরি প্রকাশ করতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বিষয় কিংবা পারিবারিক গোপনীয় বিষয়াদি তাদের কাছে বলে বেড়ান। এটা অনুচিত ও খেয়ানতের কাজ। সাহাবি হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে যে আমানতের খেয়ানত সবচেয়ে বড় বলে গণ্য হবে- তা এই যে, কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়, স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে মিলিত হয়, তারপর (স্বামী-স্ত্রীর) একান্ত বিষয়গুলো অন্যদের কাছে প্রকাশ করে দেয়।’ -সহিহ মুসলিম : ১৪৩৭
স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা গর্হিত অপরাধ। ইসলামি বিধানে শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, পরিবারের যেকোনো সদস্যের এ ধরনের গোপন কথা প্রকাশ করা খুবই অন্যায়। স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের গোপন কথা সংরক্ষিত রাখা ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য।