বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভার হ্যাক করে কৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রকৌশলীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে কম্পিউটার প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার সরকারি এ অর্থ আত্মসাৎ চক্রের হোতা বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, বিআরটিএকে প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস লিমিটেড বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ের দুর্বলতার সুযোগে এক মাসে প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও তার চক্রের সদস্যরা। দালাল ও চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ১২ এপ্রিল থেকে ১০ মে’র মধ্যে নকল কোড ব্যবহার করে ৩৮৯টি মানি রিসিটের মাধ্যমে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তারও আগে এ প্রকৌশলীর নেতৃত্বেই ওয়েবসাইট হ্যাক করে ডেসকোর দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। শাহরিয়ার ও তার অন্যতম সহযোগী আজিমসহ ছয়জনকে রাজধানীর কাফরুল ও মিরপুর এবং গাজীপুর থেকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র্যাব।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, মাসিক লেনদেনের বিবরণীর সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের লেনদেন বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে বিআরটিএ ৩৮৯টি ট্রানজেকশনের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার গরমিল পায়। বিআরটিএর প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন কাজে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তাদের ওয়েবসাইটে ট্রানজেকশনের পেমেন্ট স্ট্যাটাস পেইড দেখালেও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিএনএস র্যাব-৪-এ অভিযোগ দিয়ে জানায়, তাদের ওয়েবসাইট অথবা পেমেন্ট গেটওয়ে হ্যাক করে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
র্যাব বলছে, চক্রটি গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি প্রদানসহ বিভিন্ন কাজের জন্য নির্ধারিত ফি এবং গাড়ির কাগজপত্র রাজধানীর মিরপুরে ‘মায়ের দোয়া বিজনেস সেন্টার’ ও ‘চাঁদপুর বিজনেস সেন্টার’ থেকে সংগ্রহ করত। সেখান থেকে গ্রাহককে ভুয়া মানি রিসিট ধরিয়ে দেওয়া হতো।