মুখগহ্বর যেমন শরীরের প্রবেশ দ্বার তেমনি আয়না বা প্রতিচ্ছবিও বটে। অস্বাস্থ্যকর বা অবহেলিত মুখ যেমন দাঁত, মাড়ি, জিহ্বাসহ মুখের অভ্যন্তরে নানা রোগের সৃষ্টি করে তেমনি দীর্ঘমেয়াদি রোগ শরীরের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শরীরে যত রোগ হয় তার মধ্যে মুখের রোগ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের মুখের সঠিক যতে্ন আত্মবিশ্বাসী হই তাহলেই সিংহভাগ প্রতিরোধ সম্ভব।
ডেন্টাল ক্যারিজ : যে কোনো বয়সে দাঁতে গর্ত হওয়ার কারণ নিঃসৃত লালা, মুখের অভ্যন্তরে সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া গোত্রীয় জীবাণু ও গৃহীত মিষ্টি জাতীয় খাদ্য কণা। নিয়ম মেনে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম টুথব্রাশ ব্যবহারে দাঁতের পৃষ্ঠে এগুলো আটকে থাকে না। আর সেই সঙ্গে মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার গ্রহণে ক্যারিজের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। শিশুদের দাঁত ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁতের যতে্ন অবহেলা চলবে না।
মাড়ি রোগ : ব্রাশের সময় বা খাবার খেলে রক্তপড়া নিয়ে অনেকেই ভোগেন, এমনটি হওয়ার প্রধান কারণ দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে জীবাণু জমা ও পরবর্তী সময়ে শক্ত পাথরে রূপ নেওয়া। অনেকের দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে যা ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশের সাহায্য ছাড়া বের না হলে সেখানেও প্রদাহের সৃষ্টি হয়। সকালে নাস্তার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুই মিনিট করে দাঁতের পাঁচটি পৃষ্ঠ ভালোভাবে ব্রাশ করলে মাড়ি ভালো থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে অপুষ্টি, ভিটামিনের অভাব, রক্তের রোগ, লিভারের রোগসহ বেশ কিছু কারণেও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। কারণ নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা জরুরি।
নানা ক্ষত : অপরিষ্কার মুখ, রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি ও ভিটামিনের অভাব, হরমোনের তারতম্য, ধূমপান, জর্দা, গুল, ভাঙা দাঁত বা ফিলিং, জীবাণু সংক্রমণ প্রভৃতি নানা কারণে মুখের মধ্যে জ্বালাপোড়া বা ক্ষত তৈরি হয়। মুখের যে কোনো ক্ষত, ঘা বা ফুলে যাওয়া নিয়ে ২ সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করা আত্মঘাতী। ক্ষতের ধরন বুঝে চিকিৎসা নিতে হবে।
অতিসংবেদনশীলতা : ডেন্টাল ক্যারিজ, নিয়ম বহির্ভূত দাঁত ব্রাশ বা জোরে জোরে শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত ঘষা, কয়লা ছাই ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি, দাঁত দিয়ে সুতা কাটা ইত্যাদি থেকে দাঁতের স্তর ক্ষয় হয়ে শিনশিন করতে পারে।